Logo
×

Follow Us

আইন-আদালত

টেলিগ্রামে অশ্লীল কনটেন্ট বাণিজ্য, সতর্কতার পরামর্শ

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১০ পিএম

টেলিগ্রামে অশ্লীল কনটেন্ট বাণিজ্য, সতর্কতার পরামর্শ

ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে টেলিগ্রাম –এ বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি ও ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগে একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৮। গত ২৬ এপ্রিল দিবাগত রাতে ভোলা জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ স্পর্শকাতর ছবি-ভিডিও এবং অসংখ্য প্রিমিয়াম চ্যানেলের তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর নজরদারি জোরদার করে এই চক্রকে শনাক্ত করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র‍্যাব জানায়, চক্রটি সুসংগঠিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত ডিভাইস থেকে তথ্য সংগ্রহ করত এবং এসব কনটেন্ট ব্যবহার করে অনলাইনভিত্তিক অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করত।

তদন্তে উঠে এসেছে, তারা বিভিন্নভাবে ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও সংগ্রহ করত—কখনো হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে, কখনো সম্পর্ক ভাঙনের পর ব্যক্তিগত কনটেন্ট হাতিয়ে নিয়ে। এরপর ‘ডেমো’ চ্যানেলে কিছু কনটেন্ট প্রকাশ করে আগ্রহী গ্রাহক টানত এবং অর্থের বিনিময়ে প্রাইভেট গ্রুপে প্রবেশাধিকার দিত। এভাবে মাসে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছিল চক্রটি।

র‍্যাবের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে তাদের মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে এ ধরনের অপরাধ দমনে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলেও তারা উল্লেখ করেন।

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এখন শুধু অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং নয়—রিমোট অ্যাকসেস ট্রোজান (RAT) নামের ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে সরাসরি ব্যবহারকারীর ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যবহারকারীর অজান্তেই ক্যামেরা বা স্ক্রিন রেকর্ড করা সম্ভব হচ্ছে, যা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞরা অনলাইনে নিরাপদ থাকতে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও শেয়ার না করা, সন্দেহজনক লিংক ও ফাইল এড়িয়ে চলা, টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখা এবং অপরিচিত ডিভাইসে লগইন চেক করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অচেনা গ্রুপে যুক্ত হওয়া নিয়ন্ত্রণ করা এবং ফোন নম্বর গোপন রাখার সেটিংস ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিগত অজ্ঞতা এবং সামাজিক সংকোচকে কাজে লাগিয়েই এসব চক্র সক্রিয় থাকে। তাই ব্ল্যাকমেলের শিকার হলে ভয় পেয়ে অর্থ প্রদান না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

মন্তব্য করুন