ফুটবলের মহাজাদুকর লিওনেল মেসি
আরো একটি অধ্যায়ের শেষ হতে যাচ্ছে লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে। বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে আজকের ম্যাচে আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন ফুটবলের এই মহাতারকা। তাই ম্যাচটি নিছক প্রীতি ম্যাচ নয়, আর্জেন্টাইন ফুটবলে এটি হয়ে উঠেছে আবেগঘন এক বিদায়ের মঞ্চ।
২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেকের পর প্রায় দুই দশকের পথচলায় মেসি পেরিয়েছেন সাফল্য-ব্যর্থতার অসংখ্য বাঁক। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০৭ ম্যাচে তার গোল ১২৫টি, সঙ্গে রয়েছে ৬৮টি অ্যাসিস্ট। তবে পরিসংখ্যানের বাইরেও আর্জেন্টিনার হয়ে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ার জড়িয়ে আছে কোটি সমর্থকের আবেগ, আনন্দ ও হতাশার সঙ্গে।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পথচলা সবসময় মসৃণ ছিল না। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হার এবং পরপর দুই কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরাজয় তাঁকে তীব্র সমালোচনার মুখে ফেলেছিল। ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ফিরে এসে বদলে দেন নিজের এবং আর্জেন্টিনার গল্প।
২০২১ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে কোপা আমেরিকার ফাইনালে জয়ের মাধ্যমে শুরু হয় মেসির আন্তর্জাতিক শিরোপার স্বর্ণযুগ। এরপর ২০২২ সালের ফিনালিসিমা, কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা—একটির পর একটি শিরোপায় পূর্ণতা পায় তার দীর্ঘ অপেক্ষা। বিশেষ করে কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পূরণ হয়।
২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন মেসি। স্পেনের কাছে ফাইনালে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হলেও টুর্নামেন্টে তার ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট দেখিয়েছে, বয়স বাড়লেও তার পারফরম্যান্সের ধার কমেনি।
৩১ আগস্ট আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষের ঘোষণা দেয়ার পর এবার বিদায়ের মঞ্চ নিজের শহর বুয়েনস আইরেসে। মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে ৮৫ হাজারের বেশি দর্শক মেসির শেষ ম্যাচের সাক্ষী হতে প্রস্তুত। রদ্রিগো দে পল, জিওভানি লো সেলসোদের জন্যও ম্যাচটি বিশেষ—অধিনায়কের সঙ্গে শেষবারের মতো মাঠ ভাগ করে নেয়ার সুযোগ এটি।
মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনা দলকে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব পড়বে নতুন প্রজন্মের ওপর। ক্রিস্তিয়ান রোমেরোসহ দলের তরুণ ও অভিজ্ঞ ফুটবলারদের কাঁধে থাকবে নীল-সাদা জার্সির ভবিষ্যৎ।
বেনিনের বিপক্ষে আজকের ৯০ মিনিট তাই ফলাফলের চেয়েও বড় এক উপলক্ষ। মাঠে নামবেন এমন একজন ফুটবলার, যিনি আর্জেন্টিনাকে দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্বকাপ এনে দিয়েছেন এবং ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম স্থায়ীভাবে লিখে ফেলেছেন। মনুমেন্তালের রাত শেষ হবে, কিন্তু মেসির রেখে যাওয়া ফুটবল-জাদু থেকে যাবে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)