Logo
×

Follow Us

রাজনীতি

পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তির সাথে আঁতাত করলে জনগণ প্রতিহত করবে: রিজভী

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তির সাথে আঁতাত করলে জনগণ প্রতিহত করবে: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তির সাথে আঁতাত করে দেশে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে যারা পরাজিত শক্তির সাথে আঁতাত করবে, তারা জনগণের কাছে চিহ্নিত হয়ে যাবে। ককটেল বিস্ফোরণসহ অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনের কর্মসূচি ঘোষণা এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, যারা দেশকে রক্তাক্ত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছিল, তাদের সাথে হাত মিলিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে এর দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে। বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক সংঘাত ও রক্তক্ষয়ী ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আকাঙ্ক্ষা থেকেই ওই বিপ্লবের সূত্রপাত হয়। ৭ নভেম্বরের চেতনা ছিল এসব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চেতনা।

তিনি বলেন, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বাকশাল প্রতিষ্ঠা এবং ধারাবাহিক রক্তক্ষয়ী ঘটনাপ্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। সাধারণ মানুষ ও সেনাসদস্যদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব সংঘটিত হয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ৭ নভেম্বরের পর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভবিষ্যতে কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি জনগণের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে ৭ নভেম্বরের চেতনা আবারও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করবে। এ চেতনা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি দাবি করেন, সিপাহি-জনতার সম্মিলিত অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিপ্লবের মহানায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন। এর মধ্য দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মুক্তভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ ফিরে আসে। ৭ নভেম্বরের চেতনাই পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির কর্মসূচি:

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ১১টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করা হবে।

এ ছাড়া ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আয়োজন করা হবে। ৬ নভেম্বর কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচনা সভা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে পোস্টার প্রকাশ, চিত্রাঙ্কন ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর পরিকল্পনাও রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আবদুস সালাম আজাদ,  কেন্দ্রীয় নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মীর সরাফত আলী সপুসহ অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন