Logo
×

Follow Us

রাজনীতি

জনগণের আস্থা অর্জনে চট্টগ্রামে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিলেন তারেক রহমান

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম

জনগণের আস্থা অর্জনে চট্টগ্রামে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিলেন তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করতে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত বিএনপির সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন, সাংগঠনিক ঐক্য এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়েও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে তারেক রহমান নগরীর জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। সেখান থেকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি রেডিসন ব্লুতে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান। এতে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনসহ চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বিরোধী দলে থাকাকালে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে। এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই দলের প্রধান কর্তব্য। নির্বাচনের আগে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে আন্তরিক হতে হবে। শুধু প্রতিশ্রুতি দেয়া যথেষ্ট নয়, সেগুলো কার্যকর করে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।

দলীয় নেতাকর্মীদের জনগণের চাহিদা ও সমস্যাগুলো বোঝার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের কথা শুনতে হবে এবং তাঁদের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে। নেতাকর্মীদের আচরণ এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে মানুষ তাঁদের কাছ থেকে সহযোগিতা ও সেবা পায়। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনকল্যাণে কাজ করতে হবে। এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যাতে জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় বা দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নেও নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অন্যায় ও অপরাধ প্রতিরোধে সক্রিয় হতে হবে, তবে কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, গত ১৭ বছরে দলের নেতাকর্মীরা নানা প্রতিকূলতা, বাধা ও চাপের মধ্যেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। তাঁদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করতে হবে।

আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। যেকোনো ষড়যন্ত্র বা অপপ্রচারের বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণের পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগে পরিস্থিতি ও বাস্তবতা ভালোভাবে বিবেচনা করতে হবে বলে নির্দেশনা দেন তিনি।

স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এলাকার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কিংবা দায়িত্বশীল নেতাদের পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়। স্থানীয় নেতৃত্বের সাথে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দলের ভেতরে মতপার্থক্য থাকলেও তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে ঐক্য বজায় রাখতে হবে।

তারেক রহমান আরো বলেন, দলের অভ্যন্তরে বিভেদ তৈরি হলে সাংগঠনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সুযোগ নেয়ার সুযোগ পেতে পারে। তাই নেতাকর্মীদের একসাথে বসে নিজেদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে এবং গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে হবে। জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনের মধ্য দিয়েই দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সফল করে তুলতে হবে।

মন্তব্য করুন