সাশ্রয়ী আবাসনে ১০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)
বাংলাদেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও দুর্যোগসহনশীল আবাসন নিশ্চিত করতে ১০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ অর্থের সুবিধা বিশেষভাবে পাবেন নারী এবং প্রচলিত ব্যাংকঋণের আওতার বাইরে থাকা পরিবারগুলো।
এডিবির অর্থ পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও এর আওতাভুক্ত যোগ্য ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় দীর্ঘমেয়াদি ও জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ দেয়া হবে। এই অর্থ দিয়ে নতুন ঘর নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো বাড়ি মেরামত ও উন্নয়ন করতে পারবেন সুবিধাভোগীরা।
এডিবির প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের ঘাটতি এবং আবাসন ঋণের সীমিত সুযোগ বিবেচনায় প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো প্রচলিত আবাসন অর্থায়নের বাইরে থাকায় তাদের জন্য এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এডিবির বাংলাদেশে নিযুক্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বলেন, নিরাপদ আবাসন মানুষের মর্যাদা, সুযোগ এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার, বিশেষ করে নারীদের দুর্যোগসহনশীল বাড়ি নির্মাণে সহায়তার মাধ্যমে দারিদ্র্য কমানো, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রকল্পটি অবদান রাখবে।
প্রকল্পের আওতায় ২০৩১ সালের মধ্যে অন্তত ৪০ হাজার পরিবারকে আবাসন ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৩২ হাজার নারী এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী অন্তত ২৪ হাজার ঋণগ্রহীতা থাকবেন।
আবাসন অর্থায়নের পাশাপাশি সুবিধাভোগীদের আর্থিক ও ভূমিসংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানো এবং আবাসনের অধিকার সম্পর্কে তথ্য দেয়ার উদ্যোগও থাকবে। নারীদের আবাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বামী-স্ত্রীর বসবাসসংক্রান্ত ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দুর্যোগসহনশীল ঘর নির্মাণে নকশা, নির্মাণপ্রক্রিয়া ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার বিভিন্ন ব্যবস্থা প্রকল্পের অংশ হবে। এর ফলে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, তীব্র তাপপ্রবাহসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় বাড়িগুলো আরো সক্ষম হবে।
এডিবি জানিয়েছে, প্রকল্পটি আবাসন অর্থায়নব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণও উৎসাহিত করবে। এ জন্য পিকেএসএফ ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি তথ্য ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন, দুর্যোগ ঝুঁকি যাচাই, ঋণ পোর্টফোলিও পর্যবেক্ষণ এবং ডিজিটাল প্রতিবেদনব্যবস্থা উন্নত করা হবে।
১০ কোটি ডলারের ঋণের মধ্যে ৪ কোটি ডলার এডিবির জলবায়ু অভিযোজন তহবিল থেকে দেয়া হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা হিসেবে আরো ৬ লাখ ডলার অনুদান দেয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)