লংমার্চ নিয়ে জামায়াতকে রাশেদ খাঁনের কটাক্ষ
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
ছবিঃ ইত্তেফাক
ঢাকা-রংপুর লংমার্চ কর্মসূচির মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তার অভিযোগ, এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগকে আবারও রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ তৈরি করে দেয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ নিহত হওয়ার স্থান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে হঠকারী দল হিসেবে দেখা হয়। সরকারের বয়স সাত মাস হলেও গত ছয় মাসের কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চের মতো কর্মসূচি নেয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের আমির ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের আন্দোলনের কথা বলেছেন। একই সময়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করেছিল উল্লেখ করে এবারও দল দুটি সরকারবিরোধী কোনো পরিকল্পনা করছে কি না, সে প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন।
জামায়াতের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লংমার্চ যদি সত্যিই জনবান্ধব হয়, তাহলে ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত হেঁটে আসা উচিত। একই সাথে জামায়াত জোটের এক নেতার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের গাড়ি ব্যবহার করে লংমার্চে অংশ নেয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
লংমার্চের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করে রাশেদ খাঁন বলেন, সাত দফা দাবি আদায়ে দীর্ঘ সময় সড়ক বন্ধ রেখে কর্মসূচি পালনের প্রয়োজন নেই। এতে মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষতিরও আশঙ্কা থাকে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, লংমার্চের নামে সড়ক বন্ধ করে সরকারকে দেশ পরিচালনায় অসহযোগিতা করা হচ্ছে এবং জ্বালানির অপচয় হচ্ছে। আওয়ামী লীগও এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে লংমার্চকে অযৌক্তিক মনে করলেও সরকার ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তিনি জানান, বিএনপি ও সরকার কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করবে।
এর আগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার মান ও পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিময় করেন রাশেদ খাঁন। পরে হাসপাতালের বার্ন ইউনিট পরিদর্শন করে রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে কথা বলেন।
এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য ফজলুর রহমান বাদল ও লিটন পারভেজ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান এবং বেরোবি ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)