সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।
রিজভী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এবং চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে দেশে নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও জোট সরকার পরিচালনা করছে এবং সংসদীয় গণতন্ত্র একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকট ও অরাজকতার পর দেশকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে। গণতন্ত্র সচল রাখা, নাগরিক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বর্তমান সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, বিরোধীরা নিয়মিত সরকারের সমালোচনা করছে এবং সংসদের বাইরেও বক্তব্য দিচ্ছে। তার দাবি, অতীতের তুলনায় বর্তমানে রাজনৈতিক মতপ্রকাশের সুযোগ ও নাগরিক স্বাধীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশ না নেয়ার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী দাবি করেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, এটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং দেশের মর্যাদা ও স্বার্থের বিষয়।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য দেন বিএনপির এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের পক্ষ থেকে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলা হলেও শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সন্ত্রাসী পাঠিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হত্যার চক্রান্ত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি বিস্তারিত প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
দেশের চলমান গ্যাস ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এটি সরকারের অভ্যন্তরীণ নীতির কারণে তৈরি হয়নি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস ও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
তিনি জানান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও কাতার থেকে গ্যাস এনে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ এবং গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে বাসাবাড়িতে রান্নার জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদন সচল রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, কোনো পক্ষ যেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এমন কর্মকাণ্ডে না জড়ায়। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে রেখে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের আহ্বায়ক ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এতে সংগঠন দুটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)