ফ্যাসিস্টের দোসর বিসিআইসির সিওপি শরিফুল আলমকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড়
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) কর্মচারী প্রধান (সিওপি) আ ন ম শরিফুল আলমের বিরুদ্ধে নান অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক সামনে আসছে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রভাব বিস্তার এবং সম্পদ অর্জনের অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের পাশাপাশি রাজধানীর মিরপুরে একাধিক ফ্ল্যাট, ঢাকার গ্রিন মডেল টাউনে একাধিক প্লট এবং কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগও উঠেছে।
শরিফুল আলমকে পতিত সৈরাচার আওয়ামী দোসর উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিসিআইসি জাতীয়তাবাদী অফিসার্স ফোরাম।
শুধু নিজের নামে নয়, তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ স্বজনদের নামেও বিভিন্ন জায়গায় জমি, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পদ থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব সম্পদের উৎস, মালিকানা ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
জানা যায়, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা শিল্প মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সুপারিশে চাকুরীতে নিয়োগ পান শরিফুল আলম। ফ্যাসিস্ট আমলে ১৫ আগস্ট উদযাপনে বিসিআইসির হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু শীর্ষক অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক শরিফুল আলম সরকার বদলের সাথে সাথে বর্তমান সরকারদলীয় সমর্থক বনে যান। তার দাপট ও অন্যায়-অত্যাচারে বিসিআইসির কর্মকর্তা কর্মচারীরা অতিষ্ঠ বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
১৯৯৩ সালের ৫ আগস্ট জারি করা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী- সুনির্দিষ্ট বিষয়, ঘটনা, সময়, স্থান, ব্যক্তির পরিচয় এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ বা দলিল ব্যতীত কোনো বেনামী, নামবিহীন বা ঠিকানাবিহীন আবেদনপত্রের ওপর কোনো তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না মর্মে সকল দপ্তরে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
বিসিআইসি চেয়ারম্যানের কাছে জাতীয়তাবাদী অফিসার্স ফোরাম-এর সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মতিন স্বাক্ষরিত একটি লিখিত আবেদনে সংগঠনটি দাবি করে, পরিচয়বিহীন ও উড়ো চিঠির ভিত্তিতে বিসিআইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। কোনো অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ, ঘটনা, সময়, স্থান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় যাচাই না করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ও মানসিক চাপ তৈরি হয়। তাদের দাবি, এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠনের আগে সরকারি বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।
অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর মিরপুর এলাকায় শরিফুল আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। শরিফুল আলমের আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি ও আবাসন সংস্থার রেকর্ড পর্যালোচনা করলে মিরপুরের কথিত ফ্ল্যাটগুলোর প্রকৃত মালিকানা ও ক্রয়সংক্রান্ত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
শুধু মিরপুরে ফ্ল্যাট নয়, শরিফুল আলমের বিরুদ্ধে ঢাকার গ্রিন মডেল টাউনে একাধিক প্লট থাকার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারীতে শরিফুল আলমের গ্রামের বাড়ির এলাকায় বিলাসবহুল রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগও সামনে এসেছে। রিসোর্টটির জমির মালিকানা, নির্মাণ ব্যয়, অর্থের উৎস এবং প্রকল্পের সাথে শরিফুল আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে দাবি করেন অভিযোগকারীরা। সেইসাথে শরিফুল আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব এবং বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন তদন্তের দাবিও উঠেছে।
বিসিআইসি জাতীয়তাবাদী অফিসার্স ফোরামের পক্ষ থেকে বিসিআইসি চেয়ারম্যানের কাছে দেয়া লিখিত আবেদনে নিয়োগ ও বদলিতে আর্থিক লেনদেন এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে কেপিএমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ-বদলি নিয়ে ওঠা অভিযোগের নথিভিত্তিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শরিফুল আলমকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে মিরপুরের কথিত ফ্ল্যাট, গ্রিন মডেল টাউনের প্লট, ভূরুঙ্গামারীর রিসোর্ট, দেশের বিভিন্ন স্থানে কথিত জমি ও অন্যান্য সম্পদ এবং ব্যাংক লেনদেনের বিষয়গুলো নিয়ে দুদকের অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে। ফোরামের নেতারা বলেন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সরকারি বিধি-বিধান নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন প্রকৃত অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে, অন্যদিকে নিরপরাধ ও সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি থেকেও সুরক্ষা দেয়া যাবে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)