Logo
×

Follow Us

রাজনীতি

বিএনপি শাসনামলের বদলি-পদোন্নতির দায় আমার ওপর চাপাচ্ছে দুদক: আসিফ মাহমুদ

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম

বিএনপি শাসনামলের বদলি-পদোন্নতির দায় আমার ওপর চাপাচ্ছে দুদক: আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দাবি করেছেন, বিএনপি সরকারের সময়ে হওয়া পদোন্নতি ও পদায়নের ঘটনাগুলোর দায় তাঁর ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নিজের বিরুদ্ধে দুদকে করা অভিযোগের বিষয়ে সরকারি নথি ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায় তুলে ধরে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র উপস্থাপন করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে দুদকের মুখপাত্র এক সংবাদ সম্মেলনে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে সাংবাদিকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ওই কর্মকর্তা জানান, ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দবন্ধটি ভুলবশত ব্যবহার করা হয়েছে এবং তা সংবাদে প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। তবে এ বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো সংশোধনী দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ। তাঁর ভাষ্য, ওই বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে মানহানি হয়েছে।

দুদকের অভিযোগের একটি অংশে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়নের মাধ্যমে অর্থ নেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, সরকারি নথি অনুযায়ী ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর ১১২ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি ছাড়াই উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী সময়ে ওই আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে আপিলও নিষ্পত্তি হয়।

তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালের রায় বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২১ সালে ১১২ জনকে চলতি দায়িত্ব দেয়ার আদেশটি ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয় বাতিল করে। তাঁর বক্তব্য, এসব প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সময়কাল ও সরকারি নথি বিবেচনায় নিলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

অন্য একটি অভিযোগে ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি ও পছন্দমতো পদায়নের বিনিময়ে প্রায় দুই কোটি টাকা নেওয়ার প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে বলে জানান আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির সরকারি আদেশ জারি হয় ২০২৬ সালের ১১ মে।

নিজের দায়িত্ব ছাড়ার সময় উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয় ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি এবং সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির আদেশ জারি হয় ১১ মে। তাঁর প্রশ্ন, বিএনপি সরকারের সময়ে হওয়া ওই পদোন্নতির ঘটনায় তাঁকে কীভাবে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

আসিফ মাহমুদের দাবি, অভিযোগের বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা হলে সংশ্লিষ্ট সময়ে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আসার কথা। তার মতে, তাকে লক্ষ্য করে তদন্ত পরিচালনার কারণও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

দুদকের অভিযোগের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই মুখপাত্র। তার অভিযোগ, দুর্নীতির তথ্য অনুসন্ধানের পরিবর্তে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে তার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে তিনি বলেন, স্বাভাবিক, নিরপেক্ষ ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। একই সাথে দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্যের কারণে তাঁর যে মানহানি হয়েছে, সে বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানান আসিফ মাহমুদ।

মন্তব্য করুন