দেশে তৃণমূলভিত্তিক রাজনীতির সূচনা করেছেন তারেক রহমান:মঈন খান
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
তারেক রহমান বাংলাদেশে তৃণমূলভিত্তিক রাজনীতির সূচনা করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তাঁর দাবি, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাটে-মাঠে গিয়ে তরুণদের সংগঠিত করার মাধ্যমে তারেক রহমান যে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেছিলেন, তার ধারাবাহিকতাতেই বিএনপি আজকের অবস্থানে এসেছে।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা-২০২৬’-এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে তরুণ সমাজকে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ও সংগঠিত করেছেন। তৃণমূল পর্যায়ে এই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিএনপিকে একটি নতুন রূপ দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, শৃঙ্খলা, সততা ও জনগণের সেবা—এই তিনটি গুণের সমন্বয় ছিল তাঁর নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। জিয়াউর রহমান সাহস করে স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো কি না, তা নিয়ে তাঁর সন্দেহ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাতীয়তাবাদের এই ধারাকে ধারণ করে মানুষের সেবা করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
বইয়ের ইতিহাস তুলে ধরে মঈন খান বলেন, বইয়ের বিকাশের ইতিহাস জানতে হলে খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ সাল পর্যন্ত ফিরে যেতে হয়। তখন পাথর ও কাদার ওপর লেখার মাধ্যমে জ্ঞান সংরক্ষণের প্রাথমিক চর্চা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ সালের দিকে বইয়ের বিকাশের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়। মিশর, চীন ও রোমে বইয়ের বিভিন্ন রূপান্তর ঘটে এবং তখন স্ক্রল ছিল বইয়ের অন্যতম প্রচলিত রূপ।
তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে কোডেক্সের আবির্ভাব ঘটে এবং বর্তমান বইয়ের ধারণার বিকাশে রোম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে বইয়ের ইতিহাসে বড় পরিবর্তন আসে জার্মানিতে ১৪৪০ সালে ছাপাখানার আবিষ্কারের মাধ্যমে। এরপর প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে ই-বুকের ধারণাও সামনে আসে।
নতুন প্রজন্মকে সঠিকভাবে পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, যারা ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবেন, তাদের নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের কারণে অনেক বইয়ের দোকান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
লাইব্রেরিকে জ্ঞানের ভাণ্ডার হিসেবে উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, ইতিহাসে দেখা যায়, কোনো অঞ্চল দখলের পর মঙ্গোলরা সেখানকার সভ্যতা ও জ্ঞানচর্চার নিদর্শন ধ্বংস করতে লাইব্রেরিতে আগুন ধরিয়ে দিত। এ থেকেই মানবসমাজে বই ও জ্ঞান সংরক্ষণের গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়।
তিনি বলেন, পড়ার অভ্যাস কোনোভাবেই হারিয়ে যেতে দেয়া যাবে না। শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চা ছাড়া কোনো জাতি প্রকৃত গৌরব অর্জন করতে পারে না। এই বাস্তবতা প্রত্যেক মানুষকে উপলব্ধি করতে হবে।
জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সৈয়দা ফাতেমা সালামের সভাপতিত্বে এবং ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরীসহ অন্যরা।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)