সাইফুর রহমানের মৃত্যু নিছক গাড়ি দুর্ঘটনা নাকি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র—প্রশ্ন রিজভীর
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
ছবিঃ বাসস
সাবেক অর্থ, পরিকল্পনা ও বাণিজ্যমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমান শুধু বিএনপির গৌরব নন, তিনি পুরো জাতির সম্পদ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। দেশের অর্থনীতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সাইফুর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার মেধা, দক্ষতা ও অর্জনের কারণে তিনি জাতীয়ভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
মরহুম এম সাইফুর রহমানের ১৭তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী। এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৯৯১ সালে সাইফুর রহমান ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স (ভ্যাট) চালু করার সময় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। সংসদেও এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা ও বিতর্ক হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ভ্যাট ব্যবস্থা বাতিল করতে পারেনি। তার মতে, ভ্যাট চালুর মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি তৈরি হয়েছিল, যা সাইফুর রহমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
সাইফুর রহমানের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রশংসা করে রিজভী বলেন, রাজনৈতিকভাবে বিরোধী অবস্থানে থেকেও তার ব্যক্তি হিসেবে যোগ্যতা, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা ও অর্থনীতি পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে প্রতিপক্ষরা তেমন সমালোচনা করতে পারেনি। কারণ দেশের মানুষের কাছে তার দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রতিষ্ঠিত ছিল।
রিজভী বলেন, সাইফুর রহমান এমন একজন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপক ছিলেন, যিনি টাকা পাচার, ব্যাংক লুট কিংবা ব্যাংকের অর্থ ব্যবহার করে সরকারের ঘাটতি বাজেট পূরণের মতো পরিস্থিতি হতে দেননি। তার সময়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিজস্ব নিয়মে পরিচালিত হয়েছে এবং কর আদায়ের ওপর ভিত্তি করে বাজেট প্রণয়ন করা হতো বলেও দাবি করেন তিনি।
পরবর্তী সময়ের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে ‘লুটপাটের অর্থনীতি’ ও ‘লুটপাটের বাজেট’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার ভাষ্য, অর্থনৈতিক অনিয়ম ও অর্থপাচার একপর্যায়ে দেশের অর্থনীতিতে সংস্কৃতির মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এতে দেশ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়েছে।
সাইফুর রহমানের অর্থনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনই ছিল তার অন্যতম লক্ষ্য। কীভাবে একজন মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড় করানো যায় এবং অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করে তোলা যায়, সে বিষয়ে সাইফুর রহমানের সুস্পষ্ট ধারণা ও দক্ষতা ছিল।
শেয়ারবাজার নিয়েও সাইফুর রহমানের ভূমিকার প্রশংসা করেন রিজভী। তিনি বলেন, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সময়ে সাইফুর রহমান অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে শেয়ারবাজারে লুটপাট হয়নি এবং অনিয়ম ঠেকাতে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন রিজভী।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে একটি দরিদ্র ও পশ্চাৎপদ দেশকে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে সাইফুর রহমান তার মেধা, দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা কাজে লাগিয়েছিলেন। এ কারণেই তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সম্মান অর্জন করেছিলেন।
আলোচনায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ডের ঘোষণা, খাল খনন কর্মসূচি এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে জনকল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দেশকে আবারও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে নেবে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন রিজভী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের দারিদ্র্য পুরোপুরি দূর হয়ে দেশ একটি সমৃদ্ধ জাতিতে পরিণত হবে—এটাই দেশের মানুষের প্রত্যাশা।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এম নাসের রহমান।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)