Logo
×

Follow Us

রাজনীতি

লংমার্চে গাড়ি কমাল জামায়াত-জোট, নিরাপত্তা চায় শাপলা চত্বর থেকে লালদীঘি পর্যন্ত

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম

লংমার্চে গাড়ি কমাল জামায়াত-জোট, নিরাপত্তা চায় শাপলা চত্বর থেকে লালদীঘি পর্যন্ত

সংগৃহীত ছবি

ছয় দফা দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও জ্বালানি সংকট বিবেচনায় কর্মসূচিতে গাড়ির সংখ্যা পাঁচ-ছয় হাজার থেকে কমিয়ে প্রায় এক হাজার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লংমার্চের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। পাটওয়ারী জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে কর্মসূচির বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করা হয়েছে। পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী সড়কে গাড়িবহর এক লাইনে চলবে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ এমনিতেই বিদ্যুৎ, গ্যাস ও দ্রব্যমূল্যের সংকটে ভোগান্তিতে রয়েছে। লংমার্চের কারণে যাতে সেই দুর্ভোগ আরও না বাড়ে, সে জন্য গাড়ির সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যানজটে পড়ে কোনো অ্যাম্বুলেন্স যাতে আটকে না যায়, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হবে।

পাটওয়ারী বলেন, লংমার্চে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং তাদের কথা শুনবেন। রাস্তার দুই পাশে সাধারণ মানুষ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জোটের কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় জমায়েত শুরু হবে। সকাল ৮টার মধ্যে সেখানে জোটের শীর্ষ নেতারা উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। এরপর গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সকাল ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকায় প্রথম সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লার নূরজাহান হোটেলের বিপরীতে খালি জায়গায় সমাবেশ ও খাবারের বিরতি হবে। বিকেল ৩টার দিকে ফেনীর মহিপালে পৌঁছানোর কথা রয়েছে লংমার্চের।

এরপর বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আরেকটি সমাবেশ হবে। সবশেষ রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

লংমার্চের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনদের কেউ যেন হামলা করে তার দায় লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের ওপর চাপাতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

বিভিন্ন এলাকায় লংমার্চে অংশ নিতে আগ্রহীদের ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও অনুসারীরা হুমকি ও হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগ করেন সারজিস আলম। বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, দলটি অতীতে জুলুমের শিকার হয়েছে। তাই একই ধরনের পথ অনুসরণ না করার আহ্বান জানান তিনি।

জ্বালানি খরচ নিয়ে সরকারের সমালোচনার জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, লংমার্চে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এক লাখ লিটার তেল খরচের যে কথা বলা হয়েছে, বাস্তবে এত জ্বালানি প্রয়োজন হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

জ্বালানি তেল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে পাটওয়ারী বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যে তেল হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো ফেরত দেওয়া হলে লংমার্চ পরিচালনায় সুবিধা হবে। তবে তারা বিনা মূল্যে তেল চান না, ন্যায্য মূল্যে কিনতে চান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের আগে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনও বক্তব্য দেন।

জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রামের পর পর্যায়ক্রমে রংপুর, খুলনা ও সিলেটেও লংমার্চের কর্মসূচি রয়েছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেট অভিমুখে লংমার্চ হবে। সিলেটের কর্মসূচি রেলপথে হওয়ার কথা রয়েছে। এসব কর্মসূচির পর ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ৬ আগস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনে জোটের অবস্থান কর্মসূচি থেকে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ—এই ছয় দফা দাবিতে কর্মসূচিগুলো পালন করছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট।

মন্তব্য করুন