Logo
×

Follow Us

রাজনীতি

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৪ এএম

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আজ মঙ্গলবার ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা বটমূলে দলটি প্রতিষ্ঠা করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ জিয়াউর রহমান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১৯৭৫ সালে একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা চালুর পর দেশের রাজনৈতিক পরিসরে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই বিএনপি গঠিত হয়। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা ও গণতন্ত্রকে দলের মূল রাজনৈতিক প্রত্যয় হিসেবে সামনে রাখা হয়।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি দলটির রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। দেশকে উন্নয়ন, উৎপাদন ও স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিতে তাঁর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বাণীতে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বিএনপির ৪৮ বছরের পথচলাকে সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাফল্যের ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রমনা বটমূলে বিএনপি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার পুনর্বহাল করেন। এর ধারাবাহিকতায় বিএনপির প্রতিষ্ঠা বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শহীদ জিয়াউর রহমানের পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন মরহুমা খালেদা জিয়াকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে বিএনপি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও ব্যাপকভাবে পৌঁছে যায়।

বিএনপির চেয়ারম্যানের বাণীতে দলের বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত ও আহত নেতাকর্মীদের অবদানের কথাও স্মরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা বিভিন্ন সময়ে আত্মত্যাগ করেছেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যখন বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দিয়েছে, তখন দলটি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

দলের চেয়ারম্যানের দাবি, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত করাই এখন দলের অন্যতম লক্ষ্য বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা আগামী দিনেও দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন। গণতন্ত্রকামী জনগণকে দলের রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রধান উৎস উল্লেখ করে তিনি একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। গত বুধবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৯টায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন-বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দলের জ্যেষ্ঠ নেতা এবং দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরাও এতে অংশ নেবেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পোস্টারও প্রকাশ করা হবে।

পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচিতে বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিও রাখা হয়েছে। মৎস্য অবমুক্তকরণে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ দেশের বিভিন্ন জেলা, মহানগর ও ইউনিট পর্যায়েও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো।

মন্তব্য করুন