ছবিঃ বাসস
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অন্যায়, অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তি ও অনুপ্রেরণার উৎস বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে নজরুলের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের যেকোনো আন্দোলন ও সংগ্রামে কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণা। তিনি তাঁর পুরো জীবন অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে মানুষকে সাহস জুগিয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন গণআন্দোলনে নজরুলের চিন্তা ও সৃষ্টিকর্ম মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হলে নজরুলের বাণী মানুষকে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস দেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কাজী নজরুল ইসলাম শক্তির একটি বড় উৎস। তাঁর ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তিনি এবং তাঁর দল কবির আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন।
রিজভী আরও বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের মতো অনন্য প্রতিভার জীবন, সাহিত্য ও দর্শন নিয়ে যে ধরনের চর্চা ও অনুশীলন প্রয়োজন, তা দেশে আবারও শুরু হয়েছে। তাঁর লেখনী, সাহিত্যকর্ম ও বাণী ধারণ করেই তাঁরা পথ চলেন। নজরুল মানুষকে নির্ভীক হতে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে অনুপ্রেরণা দেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় রিজভীর সঙ্গে বিএনপির সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, সদস্যসচিব জাকির হোসেন রোকনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
১৮৯৯ সালের ২৫ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা নজরুল মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল সাহিত্যজীবনে কবিতা, গান ও বিভিন্ন সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন।
নজরুলের কবিতা ও গান শোষণ, বঞ্চনা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষকে যুগের পর যুগ অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে প্রেম, মানবতা ও সাম্যের কবি হিসেবেও তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে স্থায়ী অবস্থান তৈরি করেছেন।
১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)