এইচপিভি টিকায় নতুন বয়সসীমা বিবেচনার পরামর্শ ডব্লিউএইচওর
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
ছবিঃ বাসস
টিকাদানের আওতা বাড়াতে ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদের নিয়মিত হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) প্রতিরোধী টিকা দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে দেশগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে সংস্থাটির বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের টিকাদানই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
মঙ্গলবার জেনেভায় ডব্লিউএইচওর টিকাদানবিষয়ক কৌশলগত বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা গোষ্ঠীর (সেজ) চেয়ারম্যান অ্যান্থনি স্কট এ সুপারিশ তুলে ধরেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অ্যান্থনি স্কট জানান, বিশ্বের প্রায় ১৬৫টি দেশে ইতোমধ্যে এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি চালু হয়েছে। তবে বিশ্বজুড়ে এ টিকা গ্রহণের হার মাত্র ৩৩ শতাংশ, যা ডব্লিউএইচওর নির্ধারিত ৯০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম। টিকার আওতা বাড়াতে কম বয়সী মেয়েদের নিয়মিত টিকাদানের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
২০২২ সালে সেজ ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এক বা দুই ডোজ এইচপিভি টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। একই বয়সভিত্তিক সূচি ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ছিল। আর ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের ছয় মাসের ব্যবধানে দুই ডোজ টিকা দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল।
তবে হালনাগাদ গবেষণার তথ্য পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এক ডোজ টিকা দেয়ার পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর। টিকাদানের হার ও আওতা বাড়াতে সহায়ক হলে দেশগুলো ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদেরও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, এইচপিভির দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ জরায়ুমুখ ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ। ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে নারীদের মধ্যে পঞ্চম সর্বাধিক শনাক্ত হওয়া ক্যানসার ছিল এটি। ওই বছর প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার নারী নতুন করে এ রোগে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার নারীর মৃত্যু হয়।
সংস্থাটির টিকা বিভাগের প্রধান কেট ও’ব্রায়েন জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে ৯ কোটি ৫০ লাখের বেশি মেয়ে এইচপিভি টিকা পেয়েছে।
টিকাদানের আওতা আএও বাড়াতে সেজ কয়েকটি জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত যেসব নারী টিকা নেয়ার সুযোগ পাননি, তাঁদের টিকার আওতায় আনা এবং পরবর্তী ধাপে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত নারীদের জন্য এ সুযোগ সম্প্রসারণ। পাশাপাশি ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী ছেলেদের নিয়মিত টিকাদান এবং ২০ বছর বয়স পর্যন্ত টিকা না পাওয়া পুরুষদের টিকার আওতায় আনার বিষয়টিও প্রস্তাবে রয়েছে।
২০২৫ সাল পর্যন্ত এইচপিভি প্রতিরোধে আট ধরনের টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, বিশ্বের ২৬টি দেশে নারীদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ জরায়ুমুখ ক্যানসার। এসব দেশের অধিকাংশ সাব-সাহারান আফ্রিকা, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, মেলানেশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে অবস্থিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচপিভি টিকাদানের আওতা বাড়ানো এবং নির্ধারিত বয়সে টিকা নিশ্চিত করা জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)