Logo
×

Follow Us

অন্যান্য

এআই অপব্যবহার ঠেকাতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

Icon

আইটি ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম

এআই অপব্যবহার ঠেকাতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

সংগৃহীত ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার নিয়ে দেশে উদ্বেগ বাড়ছে। ডিপফেক তৈরি করে হয়রানি, শিশুদের লক্ষ্য করে অপতৎপরতা, ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কৃত্রিম কনটেন্ট তৈরির মতো ঘটনায় ঝুঁকি বাড়ায় এআই ব্যবহারের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও এআই ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে জনমত তৈরির উদ্দেশ্যে মিথ্যা সংবাদ, বিভ্রান্তিকর মতামত ও কৃত্রিম ছবি ছড়াচ্ছে বলে তাদের দাবি। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ‘সাইবার স্কোয়াড’ নামে কয়েকটি গোষ্ঠীকে তারা শনাক্ত করেছেন। এসব গোষ্ঠীকে সমালোচকেরা ‘বট বাহিনী’ বলে অভিহিত করেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী ও শিল্পীদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রযুক্তিবিদদের মতে, এআই মূলত এমন সফটওয়্যার ব্যবস্থা, যা লেখা, ছবি ও ভিডিও তৈরি এবং তথ্য বিশ্লেষণের মতো বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পারে। উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও কাজের গতি ত্বরান্বিত করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তবে একই প্রযুক্তি অপব্যবহার হলে ব্যক্তি ও সমাজের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও সতর্কতা রয়েছে। অ্যানথ্রপিক নির্ভরযোগ্য, বোধগম্য ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য এআই ব্যবস্থা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, দ্রুত বিকাশমান এআই ভবিষ্যতে মানবজাতির অস্তিত্বের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। গুগল ডিপমাইন্ডও একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে এসেছে।

চলতি মাসের শুরুতে ওপেনএআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী ইয়াকুব পাচোস্কি এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি ও বিস্তারের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, এআইয়ের ভবিষ্যৎ মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে আরো হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া এআই খাতের অন্তত ১ হাজার ৩০০ কর্মী সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এআই তৈরির গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের পক্ষে আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশীয় পর্যায়েও এআই-নির্ভর ভুয়া ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কনটেন্ট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এ ধরনের অপতথ্য সামাজিক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ কার্যকরভাবে প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথাও তারা বলেছেন।

বুধবার ঢাকার এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে ডিজিটাল ও সাইবার অপরাধ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং পুলিশের রেঞ্জ সদর দপ্তরে আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট ও গবেষণাগার স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার।

এর আগে ১৭ মার্চ ভিয়েনায় ‘গ্লোবাল ফ্রড সামিট’-এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া কনটেন্টের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক ভারসাম্য রক্ষায় সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রয়োজন। সন্ত্রাসবাদ, মাদক, মানবপাচার, দুর্নীতি ও আর্থিক জালিয়াতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থানের পাশাপাশি এআই-ভিত্তিক অপরাধ শনাক্ত ও আইন প্রয়োগের সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও তিনি জানান।

সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য সহায়ক পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল তথ্য ও অপতথ্য ছড়ানো ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অনেক দেশে বর্তমানে ৪৪ শতাংশ অপরাধ সাইবার পরিসরে সংঘটিত হচ্ছে। বাংলাদেশও এ ঝুঁকির বাইরে নয়। অনলাইন প্রতারণা, যৌন হয়রানির উদ্দেশ্যে ব্ল্যাকমেইল, নারীদের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং সামাজিক ও ধর্মীয় শৃঙ্খলা নষ্টের মতো অপরাধ মোকাবিলায় সময়োপযোগী আইনের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী এক মুক্ত আলোচনায় বলেন, ভুয়া পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীলতা ছড়ানো কিংবা নারী, শিশু ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনলাইনে হয়রানি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতায় পড়তে পারে না। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কোনো সরকারি সংস্থা নাগরিকের সাইবার অধিকার লঙ্ঘন করলে তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও আইনে স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন