Logo
×

Follow Us

অন্যান্য

এআই প্রতিযোগিতায় মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

Icon

আইটি ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৮ এএম

এআই প্রতিযোগিতায় মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

গবেষক জেকব কক্সন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা প্রকাশ করে অ্যানথ্রপিকের চাকরি ছেড়েছেন গবেষক জেকব কক্সন। তাঁর দাবি, এআই ল্যাবগুলো এমন প্রযুক্তি তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে, যা কয়েক বছরের মধ্যেই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কক্সন জানান, তিনি অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগ করেছেন। এর আগে তিনি ওপেনএআইয়েও কাজ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির প্রতিযোগিতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকিকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দিয়ে মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি নিচ্ছে।

কক্সন বলেন, গত তিন বছর তিনি ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক—দুই প্রতিষ্ঠানে প্রিট্রেনিং নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানই এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। বরং উভয় প্রতিষ্ঠানই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে পারে—এমন সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই তৈরির দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

এআইয়ের সম্ভাব্য সক্ষমতা সম্পর্কে সতর্ক করে কক্সন বলেন, ভবিষ্যতের শক্তিশালী এআই সিস্টেম যেকোনো কিছু হ্যাক করতে, অল্প সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রের আমূল পরিবর্তন ঘটাতে এবং বাস্তব দুনিয়ায় ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জন করতে সক্ষম হতে পারে।

২৭ বছর বয়সী সাবেক এই অ্যানথ্রপিক গবেষকের আশঙ্কা, সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই তৈরি হলে কয়েক বছরের মধ্যেই মানবজাতির অস্তিত্ব মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তিনি দাবি করেন, এআই খাতের অনেক জ্যেষ্ঠ গবেষক ও নির্বাহীও ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

কক্সনের ভাষ্য, প্রকাশ্যে এআই নিয়ে কথা বলার সময় অনেক গবেষক ও নির্বাহী তাঁদের বক্তব্যকে তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত ও যুক্তিসংগতভাবে উপস্থাপন করেন। তবে ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি একই ব্যক্তিদের কাছ থেকে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে উদ্বেগের কথা শুনেছেন বলে দাবি করেন।

অ্যানথ্রপিক সম্পর্কে কক্সন বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত। তার দাবি, ঝুঁকি সম্পর্কে জানার পরও প্রতিষ্ঠানটি সবার আগে এমন একটি উন্নত এআই ব্যবস্থা তৈরির প্রতিযোগিতায় রয়েছে, যা নিজেই নিজের সক্ষমতা বাড়াতে পারে এবং একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

তিনি আরো দাবি করেন, ওপেনএআইয়ের অনেকেই বৈশ্বিক ঝুঁকির গভীরতা পুরোপুরি উপলব্ধি করেননি। তবে অ্যানথ্রপিকের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন বলে তাঁর বক্তব্য। তাঁর মতে, অ্যানথ্রপিক ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে সচেতন হলেও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখার চাপ থেকে বের হতে পারছে না।

কক্সনের বক্তব্য অনুযায়ী, অ্যানথ্রপিকের মধ্যে এমন একটি ধারণা কাজ করছে যে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো দায়িত্বশীল আচরণ নাও করতে পারে। ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সবার আগে উন্নত এআই তৈরির প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়াকে তারা প্রয়োজনীয় মনে করছে।

তবে কক্সনের এসব বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত আশঙ্কা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেয়া। এআইয়ের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা এবং মানবজাতির জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে প্রযুক্তিবিদ ও গবেষকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ও মতপার্থক্য রয়েছে।

মন্তব্য করুন