এইচএসসি ফলে মেধার সঠিক মূল্যায়ন হয়েছে: মাহদী আমিন
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
ছবিঃ বাসস
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে কৃত্রিমভাবে পাসের হার কিংবা জিপিএ-৫ বাড়িয়ে দেখানোর প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
একই সঙ্গে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের মূল্যবান সময় বাঁচাতে এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার উদ্যোগ এবং এসএসসি পরীক্ষার মতো পূর্ণাঙ্গ উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন। অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন।
পরীক্ষার পরিবেশ ও মূল্যায়ন পদ্ধতি তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর শিক্ষামন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি বাড়ানোসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করায় সুষ্ঠু ও ইতিবাচক পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
উত্তরপত্র মূল্যায়নের বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পাসের হার কিংবা জিপিএ-৫ বাড়িয়ে দেখানোর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত যোগ্যতা এবং প্রশ্নপত্রের মান বিবেচনায় নিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়েছে।
যেসব শিক্ষার্থী এক বা দুই বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তাঁদের বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একটি বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থীর যেন পুরো একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যেই দ্রুত পুনরায় পরীক্ষার আয়োজনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সম্ভব হলে এক মাসের মধ্যেই এ পরীক্ষা নেয়া হবে।
উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্যের মাপকাঠি নয়। ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ গঠনে উৎসাহ দেয়া জরুরি। শুধু চিকিৎসক কিংবা প্রকৌশলী তৈরির মধ্যে শিক্ষাব্যবস্থাকে সীমাবদ্ধ না রেখে কারিগরি শিক্ষা, ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব আগ্রহ ও দক্ষতা বিকাশে সরকার কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব কেরামত আলী, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)