Logo
×

Follow Us

জাতীয়

সরকারি বাসায় অবৈধ ভাড়াটিয়া উচ্ছেদে সময়সীমা ৩১ অক্টোবর

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম

সরকারি বাসায় অবৈধ ভাড়াটিয়া উচ্ছেদে সময়সীমা ৩১ অক্টোবর

সংগৃহীত ছবি

সরকারি বাসা ও ফ্ল্যাটের কোনো কক্ষ কিংবা সম্পূর্ণ অংশ অন্যের কাছে ভাড়া বা সাবলেট দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সব ভাড়াটিয়া ও সাবলেটগ্রহীতাকে সরকারি আবাসন থেকে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।

নির্ধারিত সময়ের পর কোনো সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া কিংবা সাবলেটগ্রহীতার সন্ধান পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ বাতিল করা হবে। পাশাপাশি দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমনকি সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপকের দপ্তরপ্রধান ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও করা হবে।

গত ২৯ অক্টোবর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি আবাসন পরিদপ্তর এ বিষয়ে একটি জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। পরিদপ্তরের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম খানের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি আবাসনের সব বরাদ্দপ্রাপককে নির্দেশনাটি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি পরিদপ্তরের পরিদর্শন দলের সরেজমিন প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি সরকারি বাসা ও ফ্ল্যাটে অননুমোদিতভাবে ভাড়া দেয়ার তথ্য উঠে এসেছে। কিছু বরাদ্দপ্রাপক নিজেদের নামে বরাদ্দ করা বাসার এক বা একাধিক কক্ষ কিংবা পুরো বাসাই অন্য ব্যক্তির কাছে সাবলেট দিয়েছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২-এর পরিপন্থী।

এ কারণে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের আওতাধীন কোনো বাসা বা ফ্ল্যাটের সম্পূর্ণ অংশ কিংবা আংশিক অংশ অন্যের কাছে ভাড়া দেয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে যারা এ নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন, তাঁদের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়াটিয়া ও সাবলেটগ্রহীতাদের সরিয়ে নিতে হবে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর কোনো সরকারি আবাসনে ভাড়াটিয়া বা সাবলেটগ্রহীতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন করে কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বাসা ও ফ্ল্যাটে অননুমোদিতভাবে অন্য ব্যক্তিদের বসবাসের বিষয়টি সম্প্রতি বিভিন্ন পরিদর্শনের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই নতুন করে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

সরকারি আবাসন মূলত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট নিয়মে বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে কিছু বরাদ্দপ্রাপক নিজেরা বসবাস না করে বাসার অংশবিশেষ কিংবা পুরো বাসা অন্যের কাছে ভাড়া দিয়ে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন। এতে সরকারি আবাসন বরাদ্দের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত সুবিধাভোগীদের স্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

নির্দেশনাটি কার্যকর করতে গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদেরও অবহিত করেছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের উপপরিচালকদের কাছে গণবিজ্ঞপ্তির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি বাসা ও ফ্ল্যাটের বরাদ্দ ব্যবস্থায় অনিয়ম কমানো এবং অবৈধ সাবলেট কার্যক্রম বন্ধে তদারকি আরো জোরদার হবে।

মন্তব্য করুন