প্রাথমিকের ৯৩ শতাংশ ও মাধ্যমিকে ৫৮ শতাংশ বই ছাপা শেষ, নির্ধারিত সময়ে সরবরাহের লক্ষ্য
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০১ এএম
সংগৃহীত ছবি
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে মুদ্রণ ও সরবরাহ কার্যক্রম জোরদার করেছে সরকার। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শ্রেণির বই উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সংস্থাটির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার অগ্রগতি প্রায় ৯৩ শতাংশ। অন্যদিকে ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক স্তর মিলিয়ে মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে ৫৭ শতাংশের বেশি বইয়ের।
এনসিটিবির ২৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক স্তরে মোট ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০টি বইয়ের মধ্যে ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ১৫৩টি ছাপা হয়েছে, যা মোট চাহিদার ৯৮ দশমিক ২১ শতাংশ। এসব বইয়ের মধ্যে ৫০ লাখ ৭০ হাজার ২৪০টির প্রাক্-সরবরাহ পরিদর্শন (পিডিআই) সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরে ৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬টি বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ৬ কোটি ৬৬ লাখ ২৯ হাজার ১৭৩টি বা ৮৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ স্তরে ৫ কোটি ৯১ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৯টি বইয়ের পিডিআই শেষ হয়েছে।
ইবতেদায়ি স্তরে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য নির্ধারিত ৪ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭৪টি বইয়ের মধ্যে ২ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার ৭৮৪টি ছাপানো হয়েছে। মুদ্রণ অগ্রগতির হার ৬৪ দশমিক ১৫ শতাংশ। এ স্তরে ২ কোটি ১২ লাখ ৮১ হাজার ৪২২টি বইয়ের পিডিআই সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির মাধ্যমিক পর্যায়ে মোট ১৭ কোটি ৯৫ লাখ ৪৩ হাজার ১৮টি বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ৯ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৫৬টি, যা মোট চাহিদার ৫১ দশমিক ১৮ শতাংশ। এ স্তরে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫টি বইয়ের পিডিআই শেষ হয়েছে। ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক মিলিয়ে বই ছাপার সামগ্রিক অগ্রগতি ৫৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
এবার সারা দেশে ৬২৩টি লটে ১১৩টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান পাঠ্যবই ছাপানোর দায়িত্ব পেয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরের জন্য মোট ৩০ কোটি ৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১টি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ তালিকায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত বইও রয়েছে। এনসিটিবি জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় এবার এক মাস আগে মুদ্রণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বাসসকে বলেন, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার কাজ ৯০ শতাংশের বেশি শেষ হয়েছে। ইবতেদায়ি এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বইয়ের কাজও উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। তবে অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপার গতি তুলনামূলক কম থাকায় তদারকি বাড়ানো হয়েছে। কয়েকটি লটে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করায় এসব শ্রেণির বই মুদ্রণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
কাজে ধীরগতির কারণে ৩২টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান এনসিটিবি চেয়ারম্যান। প্রয়োজনে পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ বাতিল করে সক্ষম অন্য প্রেসের মাধ্যমে মুদ্রণ কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হবে। বইয়ের মান ও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করতে সকাল থেকে বিকেল এবং সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একাধিক দল মাঠপর্যায়ে নজরদারি করছে।
বইয়ের গুণগত মান বজায় রাখতে এনসিটিবি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ৫৩টি মনিটরিং দল কাজ করছে। মানদণ্ড পূরণ না করায় ইতোমধ্যে ৩৬টি প্রেসের প্রায় সাড়ে ৯ লাখ নিম্নমানের ফর্মা এবং ১২ হাজারের মতো ছাপানো বই বাতিল করা হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ বই, ফর্মা ও প্রচ্ছদ শনাক্ত করে সেগুলো নষ্ট করার ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।
এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু বলেন, রোডম্যাপ অনুযায়ী বই ছাপা ও সরবরাহের কাজ চলছে। চলতি মাসের মধ্যেই প্রাথমিক স্তরের বই মুদ্রণের অগ্রগতি ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশে পৌঁছানোর আশা রয়েছে। মাধ্যমিক স্তরের বই ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ৯৫ শতাংশের বেশি সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এবার বই গ্রহণের সময় মান যাচাইয়ের দায়িত্ব জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানদের ওপরও দেয়া হয়েছে। বই গ্রহণের পর মানের ত্রুটি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বাসসকে বলেন, উপজেলা পর্যায়ে নিম্নমানের কাগজে ছাপানো বই সরবরাহের সুযোগ দেওয়া হবে না। বইয়ের জন্য যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে কম দামের অজুহাতে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার করা না হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত বই সরবরাহে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এনসিটিবির লক্ষ্য, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দেয়া, যাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় বই হাতে পায়।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)