চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে কার্ড দেবে সরকার
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
সুত্রঃ বাসস
দেশের কৃষকদের নিবন্ধন, আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করার লক্ষ্যে আগামী চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির আওতায় ৪৩ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকদের সমন্বিত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারি কৃষিসেবা আরো সহজে পৌঁছে দেয়াই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলায় ১৪ হাজার ১৮০টি কৃষি ব্লককে পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, ব্যাংক হিসাব খোলা, কার্ড বিতরণ এবং কৃষি উপকরণ সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ১ অক্টোবর দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহের অগ্রগতি হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৯ লাখ ২৫ হাজার কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ড কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৯ লাখ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব তথ্য যাচাই করে কার্ড বিতরণ ও সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মসূচির প্রাথমিক বাস্তবায়ন যাচাই করতে ২০২৬ সালের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দেশের আটটি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রমের আওতায় ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষককে কার্ড দেয়া হয়। গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় এ প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছিল।
প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এ সময় ২০ হাজার ৪৮০ জন কৃষককে জনপ্রতি বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে বিতরণ করা হয়েছে ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা। প্রাথমিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কর্মসূচিটি আরো বিস্তৃত এলাকায় চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
গত ১ অক্টোবর ২০২৬ দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় নির্বাচিত একটি করে কৃষি ব্লকে কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়। এ পর্যায়ে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক রয়েছেন। একই সাথে কৃষি উপকরণ সহায়তা দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যায়ে কৃষি উপকরণ সহায়তার আওতায় ১ লাখ ৩ হাজার ৪৭ জন কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ফেনীর ছয়টি উপজেলার ৭ হাজার ১৫৩ জন এবং অন্য ৫৫ জেলার ৯২ হাজার ৮৯৪ জন কৃষক রয়েছেন। কর্মসূচির আওতায় প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করা এবং তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা পৌঁছে দেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ (পার্টনার) প্রকল্প। প্রকল্পটির উপপরিচালক মো. রাকিবুজ্জামান খান বাসসকে বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ, তাঁদের চাহিদা নিরূপণ এবং আধুনিক কৃষির প্রসারে সহায়তা দিতে প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, কৃষকদের চাহিদা মৌসুম ও ফসলের ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। ফলে তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা গেলে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেয়া সহজ হবে। কৃষক কার্ডের তথ্য ও কার্যক্রমের সমন্বয়ের মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন সরকারি কৃষিসেবার আওতায় আনার সুযোগও বাড়বে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড সেলের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন বাসসকে বলেন, এ কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য হলো কৃষকদের নির্ভুল তথ্য সংরক্ষণ এবং তাঁদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে আরো সহজ ও কার্যকর করা। এ জন্য তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কাজ সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করা, তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক ও কৃষি উপকরণ সহায়তা দেওয়া এবং কৃষিসেবা ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল করার সুযোগ তৈরি হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এ কার্ড দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সচিব জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা ১০ ধরনের সেবা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে স্বল্প সুদে কৃষিঋণ, সেচসুবিধা, সার ও বীজ, কৃষি প্রণোদনা, কৃষিবিমা, আবহাওয়ার তথ্য এবং বালাই ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত পরামর্শসহ বিভিন্ন সুবিধা। এসব সেবা সমন্বিতভাবে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সরকারি সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি কৃষিতে তাঁদের অংশগ্রহণ ও অবদানকে স্বীকৃতি দেয়ার লক্ষ্যও রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনতে তথ্য সংগ্রহ, নিবন্ধন, ব্যাংক হিসাব খোলা ও কার্ড বিতরণের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে সম্প্রসারণ করা হবে।
সুত্রঃ বাসস
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)