ইউপি নির্বাচনে অনিয়মে প্রার্থিতা বাতিল, জেল দুই বছর
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪২ এএম
সংগৃহীত ছবি
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আচরণবিধি ভঙ্গ, ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো কিংবা ভোটগ্রহণে বাধা দেয়ার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অপরাধের ধরন অনুযায়ী এসব ঘটনায় সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিলের পাশাপাশি অনিয়মে প্রভাবিত ভোটকেন্দ্রের ফল স্থগিত কিংবা নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশও দিতে পারবে কমিশন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)কে বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা যাচাই করে সত্যতা মিলে প্রার্থিতা বাতিলের ব্যবস্থাও নেয়া হবে।
ইসির হালনাগাদ স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালায় নির্বাচনী অপরাধের শাস্তি, প্রার্থিতা বাতিল এবং অনিয়মপূর্ণ কেন্দ্রের ফল স্থগিত করার বিধান স্পষ্ট করা হয়েছে। বিধিমালার ৮০(ক) অনুযায়ী, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়া, ভয় দেখানো, আঘাত করা কিংবা বলপ্রয়োগ করে দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
একইভাবে নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের কাজে বাধা দেয়া, তাদের শারীরিকভাবে আঘাত করা কিংবা দায়িত্ব পালনের সরঞ্জাম নষ্ট করলেও ব্যবস্থা নেয়া যাবে। কোনো ভোটারকে কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া, প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে না দেয়া অথবা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করার মতো কর্মকাণ্ডও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এসব অপরাধে দোষী ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেয়া যেতে পারে।
ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত বা ভোট দেয়ার অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিকে ভোটদানে বাধা দিয়ে কেন্দ্র ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে।
প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত তদন্তপ্রক্রিয়া অনুসরণ করবে নির্বাচন কমিশন। কোনো নথি বা লিখিত প্রতিবেদন থেকে চেয়ারম্যান কিংবা সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী বা তাঁর নির্বাচনী এজেন্টের বিরুদ্ধে বিধি লঙ্ঘন কিংবা লঙ্ঘনের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেলে কমিশন তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থী, তার এজেন্ট কিংবা তাদের নির্দেশ বা সম্মতিতে অন্য কেউ বিধি ভঙ্গ করেছেন বলে কমিশন নিশ্চিত হলে লিখিত আদেশে প্রার্থিতা বাতিল করা যাবে।
ভোটকেন্দ্রে বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি কিংবা অন্য কোনো অনিয়মের কারণে ফলাফল প্রভাবিত হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ফল স্থগিত করার ক্ষমতাও রয়েছে কমিশনের। অনুসন্ধান শেষে পরিস্থিতি বিবেচনায় ফল প্রকাশের নির্দেশ দেয়া অথবা নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে।
সিইসি জানান, নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ। ভোটার স্লিপসহ প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের নিয়ম আচরণবিধিতে নির্ধারিত রয়েছে। এসব বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধানও রয়েছে।
নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চেয়েছে কমিশন। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে।
সিইসি বলেন, ভোটাররা যাতে কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই কেন্দ্রে যেতে পারেন, ভোট দিতে পারেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরিতে কমিশন কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রস্তুতিও চলছে।
ইসির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, দেশে আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে এসব পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরো জানান, সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। সাধারণত ভোটগ্রহণের ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল প্রকাশ করা হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদগুলোর পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিটি ধাপে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার ইউনিয়নে ভোট আয়োজন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সিইসি।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)