পুঁজিবাজারে পাঁচ মাসে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩২ পিএম
ছবিঃ সংগৃহীত ছবি
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো এবং বেসরকারি খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করতে গত পাঁচ মাসে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সাথে বন্ডের লেনদেন বাড়ানো, নতুন বিনিয়োগ পণ্য চালু এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে একাধিক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বিএসইসির অনুমোদন পাওয়া বন্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের ১ হাজার কোটি টাকার তিন বছর মেয়াদি জিরো-কুপন গ্রিন বন্ড, সাউথইস্ট ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকার সাত বছর মেয়াদি সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড, ব্যাংক এশিয়ার ৮০০ কোটি টাকার সাত বছর মেয়াদি সাসটেইনেবল সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকার সাত বছর মেয়াদি সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড এবং ওয়ান ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড।
বন্ডবাজারকে আরো কার্যকর করতে অনুমোদিত বন্ডগুলো স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত করার শর্ত দিয়েছে বিএসইসি। এর মাধ্যমে এসব বন্ডের দ্বিতীয় বাজারে লেনদেনের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি তালিকাভুক্তি ফি কমানো এবং বন্ড ইস্যুর প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ে।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, বন্ডবাজার গতিশীল করতে এবারই প্রথম মূল বোর্ডে তালিকাভুক্তির শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এতে স্টক এক্সচেঞ্জে বন্ড কেনাবেচার সুযোগ বাড়বে। বিনিয়োগকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী বন্ড বিক্রি করে বিনিয়োগ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন। ফলে বাজারে লেনদেন বৃদ্ধি এবং কার্যকর দ্বিতীয় বাজার গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
পুঁজিবাজারে বৈচিত্র্য আনতে পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়নের মতো নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক বন্ড চালুর উদ্যোগও নিয়েছে কমিশন। এর অংশ হিসেবে নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের জন্য সাজেদা ফাউন্ডেশনের ১৫৮ কোটি টাকার ‘অরেঞ্জ বন্ড’ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন আর্থিক পণ্য যুক্ত করার পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নেও অর্থায়নের সুযোগ বাড়বে।
অন্যদিকে, ব্র্যাক ব্যাংকের গ্রিন বন্ড পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অর্থায়ন এবং টিয়ার-২ মূলধন সংগ্রহে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ধরনের বন্ডের বিস্তার ঘটলে করপোরেট অর্থায়নের ক্ষেত্র আরো সম্প্রসারিত হতে পারে।
বন্ডবাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক অর্থের প্রবাহ বাড়াতে প্রভিডেন্ট ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডের বিনিয়োগ নীতিতেও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বর্তমানে এসব তহবিলের উল্লেখযোগ্য অংশ সরকারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়। তহবিলগুলোর অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ করপোরেট বন্ড ও শেয়ারে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরিতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বিএসইসির মুখপাত্র।
আবুল কালাম বলেন, এ উদ্যোগ কার্যকর হলে পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি অর্থের নতুন উৎস তৈরি হবে। পাশাপাশি করপোরেট বন্ডের চাহিদা বাড়বে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ পাবে।
বন্ডবাজারে বীমা কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে বিএসইসি। বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ভিত্তিক মিউচুয়াল ফান্ড এবং বীমা কোম্পানির তহবিলকে করপোরেট বন্ডে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া বন্ড কেনাবেচার জন্য পৃথক লেনদেন প্ল্যাটফর্ম আরো কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
বন্ড ইস্যুর নিয়মকানুন আধুনিক করতে বিদ্যমান আইনি কাঠামো সংস্কারের কাজও চলছে। এ লক্ষ্যে ডেট ইস্যু রুলস সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নতুন বিধিমালায় বন্ড অনুমোদন ও ইস্যুর প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি স্বচ্ছতা এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
বিএসইসির লক্ষ্য, দেশের পুঁজিবাজারকে শুধু শেয়ারনির্ভর না রেখে শেয়ার, বন্ড ও অন্যান্য আর্থিক পণ্যের সমন্বয়ে বহুমুখী বাজারে রূপ দেয়া। সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিকল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে। একই সাথে বন্ডের দ্বিতীয় বাজারে লেনদেন বাড়লে পুঁজিবাজারের গভীরতা ও সামগ্রিক কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)