Logo
×

Follow Us

জাতীয়

দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম

দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ছবি: বঙ্গভবন

দেশের মানুষের জন্য উন্নত ও বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং হাসপাতালগুলোতে রোগীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী রোগীর সংখ্যা কমাতে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মান ও মানুষের আস্থা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী ‘কোলোরেক্টাল সার্জারি সম্মেলন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবলের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি সেবার মান নিয়ে আস্থার সংকটও অনেক রোগীকে বিদেশে যেতে বাধ্য করে। এর ফলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে চলে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশেই উন্নত চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা, আধুনিক চিকিৎসাপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সাশ্রয়ী ও জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। চিকিৎসাকে শুধু পেশা হিসেবে বিবেচনা না করে মানুষের জীবন, মর্যাদা ও আশার সঙ্গে সম্পৃক্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

চিকিৎসকদের রোগীদের সাথে মানবিক আচরণ করা, রোগী ও তাঁদের স্বজনদের কাছে সহজ ভাষায় চিকিৎসার বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা এবং হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখার ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো মানুষ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের স্বাস্থ্য খাতের অতীত পরিস্থিতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত ১৭ বছরে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। সরকারি হাসপাতালে সময়মতো চিকিৎসা, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত না করেই ব্যয়বহুল চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার কারণে অনেক যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত থেকেছে। কোথাও কোথাও প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও কর্মী ছাড়াই পরীক্ষাগারের যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতাও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।

এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল নিয়োগ, কার্যকর নীতি, জবাবদিহি এবং সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। এ সময় দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।

স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বরাদ্দ ও উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। বরাদ্দের অর্থ যেন যথাযথভাবে ব্যয় হয় এবং সাধারণ মানুষ তার সুফল পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশের ১০০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সাথে স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবাকে আরো জনমুখী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কোলোরেক্টাল বা বৃহদান্ত্র ও মলদ্বারসংক্রান্ত রোগের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ এসব রোগে আক্রান্ত হলেও লজ্জা, সংকোচ ও অসচেতনতার কারণে অনেকে সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যান না। ফলে রোগ জটিল আকার ধারণ করে। এ সমস্যা কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং সহজলভ্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্টদের আরো সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে জাতীয় কোলোরেক্টাল সার্জারি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপিত হলে রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে যথাযথ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে এবং তরুণ চিকিৎসকেরা আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সোসাইটি অব কোলন অ্যান্ড রেক্টাল সার্জনসের (বিএসসিআরএস) পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে সম্মাননা স্মারক দেয়া হয়। সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সাহাদত হোসেন শেখ।

এতে আরো বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এফ এম সিদ্দিকী, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল।

দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা অংশ নিচ্ছেন। তাঁরা বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের তরুণ চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি নিজেদের অভিজ্ঞতা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি নিয়ে মতবিনিময় করবেন।

মন্তব্য করুন