Logo
×

Follow Us

জাতীয়

৬৮ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেবে বিআরটিসি,সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানেরও সুযোগ

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭ পিএম

৬৮ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেবে বিআরটিসি,সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানেরও সুযোগ

ছবিঃ বাসস

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ৬৮ হাজার চালককে দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে দুটি পৃথক কর্মসূচির আওতায় এ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এর মাধ্যমে নতুন চালক তৈরির পাশাপাশি কর্মরত পেশাদার চালকদের দক্ষতা ও কারিগরি জ্ঞান বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় মোট ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪০ হাজার তরুণকে নতুন করে পেশাদার চালক হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বাকি ২০ হাজার কর্মরত পেশাদার চালককে দেয়া হবে দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক বা রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ।

২০২৬ সালের মে মাস থেকে শুরু হয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত চলবে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। বিআরটিসির চারটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ও ২৩টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করা হবে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ঢাকা, গাজীপুর, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, খুলনা ও রংপুরসহ বিভিন্ন জেলার প্রশিক্ষণ সুবিধা রয়েছে।

বিআরটিসির প্রাক্কলন ও কাজের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ (আইসিডব্লিউএস) বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ফাতেমা বেগম জানান, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দক্ষ চালক তৈরির পাশাপাশি সড়কে নিরাপত্তা বাড়ানো সম্ভব হবে। পেশাদার চালকদের মানোন্নয়ন, ট্রাফিক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা এবং যানবাহন পরিচালনায় কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পের পাশাপাশি এডিবির অর্থায়নে পরিচালিত ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম’ (এসআইসিআইপি)-এর আওতায় আরও আট হাজার নতুন চালককে প্রশিক্ষণ দেবে বিআরটিসি। এ কর্মসূচিতে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চাকরির সুযোগ বিবেচনায় প্রশিক্ষণার্থীদের ইংরেজি ও আরবি ভাষায় যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

এসআইসিআইপি কর্মসূচির প্রশিক্ষণ হবে ৩৬০ ঘণ্টার। এতে আত্মরক্ষামূলক ড্রাইভিং, গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং পেশাদারভাবে যানবাহন চালানোর বিভিন্ন কৌশল শেখানো হবে। প্রশিক্ষণার্থীদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করে গড়ে তোলাই এ কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।

এ কর্মসূচিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় নারী যাত্রীদের হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি এবং নারীদের ড্রাইভিং পেশায় আগ্রহী করে তোলার উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ সেবা আরো বিস্তৃত করার সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে তুলনামূলক কম সাড়া পাওয়া গেলেও বর্তমানে নারীদের মধ্যে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নেওয়া ও এ পেশায় আসার আগ্রহ বাড়ছে।

বিআরটিসি এর আগেও ‘স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম’ (এসইআইপি)-এর আওতায় প্রায় ৪৭ হাজার ৫০০ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের চলমান প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ছয় হাজার ৪০০ নতুন চালকের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও প্রায় ছয় হাজার ৬০০ চালকের প্রশিক্ষণ চলছে।

অন্যদিকে, এসআইসিআইপি প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৪ সালের ১ জুলাই। এর প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি। বিআরটিসির তথ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচিতে চারটি ধাপে ইতোমধ্যে দুই হাজার ৮৫০ জন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বর্তমানে পঞ্চম ধাপে আরও ৬৫০ জনের প্রশিক্ষণ চলছে।

প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করা অংশগ্রহণকারীদের সরকার স্বীকৃত সনদ এবং বিনা মূল্যে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রশিক্ষণার্থীদের যাতায়াত ও টিফিন ভাতাও দেয়া হচ্ছে। মোটর ড্রাইভিংয়ের পাশাপাশি গাড়ির প্রাথমিক রক্ষণাবেক্ষণের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়ায় অংশগ্রহণকারীরা যানবাহন চালানো ও সচল রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।

বিআরটিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পের আওতায় সংস্থাটির বিভিন্ন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে শিগগিরই কর্মরত চালকদের রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ শুরু হবে। আগ্রহী চালকদের নিবন্ধনের জন্য নিকটবর্তী বিআরটিসি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি দক্ষ চালকদের জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

সুত্রঃ বাসস

মন্তব্য করুন