Logo
×

Follow Us

জাতীয়

জাপানে গার্ড অব অনারে সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১১ এএম

জাপানে গার্ড অব অনারে সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবিঃ পিএমও

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। এ সময় জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড পরিদর্শন করেন।

অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে দুই দেশের সরকারপ্রধান পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সফরসঙ্গীদের জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। একইভাবে সানায়ে তাকাইচি তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে কান্তেইয়ের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন তারেক রহমান। এরপর দুই নেতা একান্ত বৈঠকে বসেন।

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদার করাই এ সফরের অন্যতম লক্ষ্য। শীর্ষ বৈঠকে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকের ফলাফল নিয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন সানায়ে তাকাইচি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার সড়কের দুই পাশে বাংলাদেশ ও জাপানের জাতীয় পতাকা টানানো হয়। চার দিনের এ সফরে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবং দেশটির ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে বৈঠকে অংশ নেবেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সোমবার সকালে টোকিও পৌঁছান তারেক রহমান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে। সফরের প্রথম দিনেই তিনি জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বাধীন সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

তারো আসোর সাথে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ২০০৬ সালে জাপানে তাঁদের সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন। একই সাথে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক উন্নয়নে আসোর অবদানের প্রশংসা করেন এবং তাঁকে আবারও বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ তথ্য জানান।

মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদনশিল্পে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়। এ সময় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।

জাইকার প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠকে অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা, চলমান প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রযুক্তি গ্রাম ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠা, কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশলশিল্পের বিকাশ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। এ ছাড়া হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী এবং আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমানও সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফর। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি নিউইয়র্কেও গিয়েছিলেন।

মন্তব্য করুন