জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্বই হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
ছবিঃ পিএমও
বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যৌথ সমৃদ্ধির ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে জাপানের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে সানায়ে তাকাইচির সাথে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ একমত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কয়েক দশকের আস্থা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের ওপর বাংলাদেশ-জাপান অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে জাপানের অংশীদারত্ব বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান এবং উভয় দেশের জন্য লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে তাঁর সরকার আগ্রহী।
তিনি বলেন, দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশের সাথে জাপানের সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরো জোরদার করার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সফরকালে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক বিনিময় করেছে বাংলাদেশ ও জাপান। বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।
বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে জাপানের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধা এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা দুই দেশের সম্পর্ককে দৃঢ় করেছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান প্রথম দিকেই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়া দেশগুলোর অন্যতম বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, তিন দশকের বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। এ সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি সরকারি সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী এবং দেশটির জনগণকে ধন্যবাদ জানান। দুই দেশের বন্ধুত্বকে বাস্তব অর্থনৈতিক সুযোগ ও অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপ দেয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩২ মিনিটে কান্তেইয়ে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এ সময় তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে দুই নেতা নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন।
সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে সোমবার চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে। সফরের প্রথম দিন তিনি জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বাধীন সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সাথে পৃথক বৈঠক করেন।
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফর। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যান তিনি।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)