Logo
×

Follow Us

জাতীয়

ফ্যামিলি কার্ডে বদলাচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১২ এএম

ফ্যামিলি কার্ডে বদলাচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি

ছবিঃ বাসস

দেশের দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনতে পরিবারভিত্তিক সমন্বিত ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলছে সরকার। এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্র পরিবার শনাক্ত, উপকারভোগী নির্বাচন এবং সরকারি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেয়ার প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডকে পর্যায়ক্রমে একটি সমন্বিত সামাজিক নিবন্ধন ও অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থায় রূপ দেয়া হবে। এর ফলে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে একই তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে উপকারভোগী নির্বাচন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি যোগ্য পরিবারকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেয়ার সুযোগ বাড়বে।

চলতি বছর পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের আওতায় ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ৭০ হাজার ৮৬১টি পরিবার আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। এ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ৪১ লাখ পরিবারকে কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর থেকে সারাদেশে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণ শুরু হয়েছে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বাসসকে বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের প্রধান লক্ষ্য হলো তথ্যের ভিত্তিতে প্রকৃত দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারকে চিহ্নিত করা। সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধা যেন প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছায় এবং কোনো যোগ্য পরিবার যেন তালিকার বাইরে না থাকে, সে বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, পরিবারের আয়, সম্পদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও জীবিকার তথ্য বিশ্লেষণ করে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। সময়ের সাথে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হলে তথ্যভাণ্ডারও হালনাগাদ করা হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আয়, সম্পদ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও জীবিকার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে একটি গতিশীল সামাজিক নিবন্ধনব্যবস্থা তৈরি করা হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা ও দারিদ্র্যের মাত্রা নিরূপণ করে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, ফ্যামিলি কার্ডকে শুধু ভাতা বিতরণের মাধ্যম হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। বরং এটিকে সমন্বিত সামাজিক নিবন্ধনব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে একই তথ্যভিত্তি ব্যবহার করা যায়। পরিবারের আর্থসামাজিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সংগতি রেখে এসব তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে।

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে মাঠপর্যায়ে সরাসরি বাড়ি বাড়ি যাবেন তথ্য সংগ্রহকারীরা। ট্যাবলেট কম্পিউটারের মাধ্যমে পরিবারের সদস্য ও আর্থসামাজিক অবস্থাসংক্রান্ত তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হবে। ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও অফলাইনে তথ্য সংগ্রহ করা যাবে। পরে সংযোগ পাওয়া গেলে সেসব তথ্য কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে পাঠানো হবে।

তথ্য সংগ্রহের কাজ যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অবস্থান শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহকারীদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারক করা হবে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহ্বুব বাসসকে বলেন, তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্ভুলতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণ দেয়া এবং সংগৃহীত তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে যেসব সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের আগে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

উপকারভোগী নির্বাচনে রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত সুপারিশের পরিবর্তে পরিবারের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থাকে প্রাধান্য দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে আয়, সম্পদ, জীবনযাত্রা ও অন্যান্য সূচকের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে।

প্রকৃত দরিদ্র পরিবার চিহ্নিত করতে সম্পদ ও আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে পরিবারের আয়-ব্যয়, সম্পদ, বাসস্থান ও জীবনযাত্রার বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় নিয়ে একটি স্কোর নির্ধারণ করা হবে। এর মাধ্যমে সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রয়েছে—এমন পরিবারগুলোকে শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভুল, নিজ নামে মোবাইল নম্বর না থাকা এবং ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক হিসাবসংক্রান্ত কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি সম্প্রসারণের আগে এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সরকার ফ্যামিলি কার্ডকে ব্যাংক ও ডিজিটাল আর্থিক সেবার সাথে যুক্ত করার পরিকল্পনাও করছে। এর মাধ্যমে সরকারি সহায়তা সরাসরি উপকারভোগীর কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ কমানো এবং অর্থ বিতরণে স্বচ্ছতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া আর্থিক সহায়তা পরিবারের খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, বাসস্থান ও জীবিকার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা মূল্যায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রভাব সমীক্ষার মাধ্যমে কর্মসূচির কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে উপকারভোগী শনাক্তকরণ, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও অর্থ বিতরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। একই সাথে পরিবারভিত্তিক সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার গড়ে উঠলে সরকারি সহায়তা আরও সুনির্দিষ্টভাবে প্রকৃত দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া সহজ হবে।

সরকার ফ্যামিলি কার্ডকে ভবিষ্যতে শুধু ভাতা গ্রহণের মাধ্যম হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। ব্যাংক ও ডিজিটাল আর্থিক সেবার সাথে কার্ড ব্যবস্থাকে যুক্ত করে সরকারি অর্থ সরাসরি উপকারভোগীর কাছে পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমার পাশাপাশি অর্থপ্রদানে স্বচ্ছতা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

একই সাথে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেয়া সহায়তা পরিবারের খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, বাসস্থান ও জীবিকার ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা মূল্যায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ভবিষ্যতে প্রভাব সমীক্ষার মাধ্যমে কর্মসূচির কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা হবে।

সরকারের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাইলট পর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচিটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উপকারভোগী শনাক্তকরণ, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও অর্থপ্রদানে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

একই সাথে পরিবারভিত্তিক সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার গড়ে ওঠায় ভবিষ্যতে সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন কর্মসূচি আরো লক্ষ্যভিত্তিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

সুত্রঃ বাসস

মন্তব্য করুন