Logo
×

Follow Us

জাতীয়

জাপান সফরে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়াতে গুরুত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

জাপান সফরে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়াতে গুরুত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরকে ঘিরে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রত্যাশা করছে টোকিও। দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি সফরে গুরুত্ব পাবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই নেতার উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে তারেক রহমানের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকায় অবস্থিত জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ জানিয়েছে, তারেক রহমানের প্রথম জাপান সফরের মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরো গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সাথে আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন, ব্যবসাবান্ধব নীতি বাস্তবায়ন এবং অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে জাপান বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সফরকালে জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে বৈঠকে বিনিয়োগের সম্ভাবনা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং শিল্প খাতে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ ও জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের প্রতিনিধিদের সাথেও তার বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।

এ ছাড়া জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) এবং জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সফরের অংশ হিসেবে জাপানের জ্বালানি অবকাঠামো, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের পাশাপাশি ইউনিক্লোর সদর দপ্তর এবং টয়োটার একটি কারখানা পরিদর্শনের সম্ভাব্য কর্মসূচিও রয়েছে।

সফরে নতুন জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন খাতে সমঝোতা স্মারক সই কিংবা সহযোগিতার বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।

বাংলাদেশে জাপানি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কারখানা স্থাপন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতেও দেশটির সহযোগিতা চাইবে বাংলাদেশ। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী জাপান। দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে দেশটির উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। ঢাকার মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন জাপানের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গতিশীল হবে। বিনিয়োগ, বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে সহায়তা করতে পারে।

সূত্র: বাসস

মন্তব্য করুন