শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বই, গুরুত্ব পাবে হাতে-কলমে শিক্ষা
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
সংগৃহীত ছবি
২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাক্রমে নতুন চারটি পাঠ্যবই যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রচলিত মুখস্থনির্ভর পড়াশোনার বাইরে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নৈতিক মূল্যবোধ, শারীরিক বিকাশ ও বাস্তবমুখী দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই বইগুলো প্রণয়ন করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
নতুন বইগুলোর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির জন্য রয়েছে ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’। আর ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’। আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) সভায় বইগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার কথা রয়েছে।
এনসিটিবি সূত্র জানিয়েছে, নতুন চারটি বইয়ের প্রায় দেড় কোটি কপি মুদ্রণের পরিকল্পনা রয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর বইগুলোর পাণ্ডুলিপি ছাপাখানায় পাঠানো হবে। আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে মুদ্রণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বাসসকে জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক শিষ্টাচার, পারিবারিক সংস্কৃতি ও সুনাগরিকের গুণাবলি গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষার মাধ্যমে কর্মদক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে এনসিটিবি ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদেরা কাজ করছেন।
খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক বিকাশ
চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ বইটি ১৪টি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে। এতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস ও দাবার মতো খেলার নিয়মকানুন তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি কারাতে, জুডো ও তায়কোয়ান্দোর মতো আত্মরক্ষার কৌশল এবং খেলাধুলার সময় আঘাত পেলে প্রাথমিক চিকিৎসার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পুষ্টি, সামাজিক দক্ষতা ও দেশপ্রেমের মতো বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পরিচয়
চতুর্থ শ্রেণির ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইটিতে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা, পোশাক, শিল্পকলা, খাদ্যাভ্যাস, সামাজিক রীতিনীতি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনধারা তুলে ধরা হয়েছে। ১১টি অধ্যায়ে সাজানো বইটিতে পারিবারিক সহযোগিতা, জাতীয় পতাকা, বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান এবং পিঠা-পুলির মতো সাংস্কৃতিক উপাদানও স্থান পেয়েছে। এ ছাড়া ‘নতুন কুঁড়ি’ আয়োজনের ইতিহাসও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আনন্দময় পরিবেশে শেখার সুযোগ
ষষ্ঠ শ্রেণির ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটি ছয়টি অধ্যায়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে মুখস্থবিদ্যা ও পরীক্ষার প্রস্তুতির পরিবর্তে আনন্দময় অভিজ্ঞতা, সহপাঠীদের সাথে পারস্পরিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শেখার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। নিজের স্বাস্থ্য, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা থেকে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করাই বইটির অন্যতম লক্ষ্য।
কারিগরি শিক্ষায় বাস্তব দক্ষতা
ষষ্ঠ শ্রেণির ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বইটি আটটি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে। এতে প্রযুক্তির ব্যবহার, সমস্যা সমাধান, ছোট উদ্যোগ গড়ে তোলা, সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই জীবনযাপনের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিক্ষার্থীরা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন নয়, বাস্তব জীবনে বিভিন্ন কাজ করার দক্ষতাও গড়ে তুলতে পারবে বলে আশা করছে এনসিটিবি।
এনসিটিবি সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিবিষয়ক পাঠক্রম পর্যায়ক্রমে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও কারিগরি শিক্ষা ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনসিটিবির কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন বইগুলো অনুমোদন ও মুদ্রণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শিক্ষার্থীদের আনন্দময়, বাস্তবভিত্তিক ও দক্ষতানির্ভর শিক্ষার সুযোগ বাড়বে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)