Logo
×

Follow Us

জাতীয়

রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৮ পিএম

রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান

সংগৃহীত ছবি

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আনা ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জ্বালানিবাহী গাড়িবহরটি কেন্দ্রে প্রবেশ করে। এর আগে গত ৩ অক্টোবর প্রথম চালান রূপপুরে পৌঁছেছিল।

এর আগে গত ২ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাশিয়া থেকে ভারত হয়ে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে ইউরেনিয়ামের চালানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। পরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় সড়কপথে তা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেয়া হয়।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে গত ১১ অক্টোবর সফলভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়। এর আগে ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) ইউনিটটিতে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। কেন্দ্রটির চুল্লিতে ব্যবহার করা হয়েছে তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের শেষদিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে আরও নয়টি ফ্লাইটে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আনা হবে। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এসব জ্বালানি দেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পদ্মা নদীর তীরে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় অবস্থিত। ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার এই প্রকল্পটি বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন পাওয়ায় আগামী নভেম্বরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের আশা, রূপপুরে উৎপাদন শুরু হলে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি কমাতে ভূমিকা রাখবে কেন্দ্রটি।

প্রকল্পটির মূল মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ঠিকাদারের সাথে চুক্তি অনুযায়ী, মেয়াদ বাড়ানোর কারণে প্রকল্প ব্যয় বাড়ানোর সুযোগ না থাকলেও ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির ফলে ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রাথমিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ বছর। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রটির কার্যকাল আরও ২০ থেকে ৩০ বছর বাড়ানো সম্ভব।

মন্তব্য করুন