সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে তরুণদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে সমাজে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও আপসহীন থাকতে হবে।
বুধবার সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী ২০২৬ উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার দেশ। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে দেয়া যাবে না।
রাষ্ট্রপতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বিজয়া দশমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বঙ্গভবনে উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানান।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারছেন, যা দেশের অন্যতম বড় অর্জন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে দেশের শক্তি ও অস্তিত্বের ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি যেকোনো মূল্যে এই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ ভূখণ্ডে হাজার বছর ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বসবাস করে আসছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে।
দুর্গাপূজার তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এ উৎসবের মূল বার্তা হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের প্রতিষ্ঠা। ধর্ম, বর্ণ কিংবা গোষ্ঠীগত পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হওয়া গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সব ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে। এসব অধিকার বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
রাষ্ট্রপতি আরো জানান, সব ধর্মের মানুষ যাতে নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত হলে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানে আগত অতিথি ও দর্শনার্থীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)