সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
ছবিঃ পিএমও
দেশে ধর্ম-বর্ণ, দল-মত ও শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সব মানুষের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ দেশের মানুষ হাজার বছর ধরে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী হয়েও শান্তি ও সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে আসছেন। ভবিষ্যতেও এই সহাবস্থান বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
মঙ্গলবার রংপুর ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দির প্রাঙ্গণে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্মের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিয়েছেন। এই ঐক্য অটুট রেখেই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। দেশের স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার শুধু ভোট দেয়া মানুষের নয়, বরং সব নাগরিকের সরকার হতে চায়। নির্বাচনে কোনো এলাকায় বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, আবার কোনো এলাকায় হননি। তবে সরকার দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করতে চায়।
রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে দেশের সব অঞ্চলে উন্নয়ন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রংপুর মহানগরের উন্নয়নে একনেক সভায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের আওতায় মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে। উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সবাইকে সাথে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে চায়। কিন্তু একটি মহল গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। অতীতে মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হয়েছিল, একইভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান নিয়েও বিতর্ক তৈরির চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলে তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা যেতে পারে। জনগণের প্রতিনিধিদের আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
অতীতের রাজনৈতিক চর্চায় পরিবর্তন আনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এ পরিবর্তন বাস্তবায়নে জনগণই সবচেয়ে বড় শক্তি। এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
শারদীয় দুর্গাপূজার নবমী উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব ধর্মের মানুষকে সাথে নিয়েই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। এ সময় মন্দিরের পেছনে হোস্টেলের মতো একটি অবকাঠামো নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেয়ার কথা জানান তিনি।
মঙ্গলবার বেলা ১২টা ৪ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুর ধর্মসভা মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছালে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হয়। শিশুরা নৃত্য পরিবেশন করে তাঁকে অভ্যর্থনা জানায়। পরে তিনি মন্দিরের পূজারি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ভবতোষ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার এ সময় তাঁকে একটি ক্রেস্ট উপহার দেন। প্রধানমন্ত্রী মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে ১০ লাখ টাকার একটি চেকও তুলে দেন।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ড, সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল ও নিপুণ রায় চৌধুরী। এ ছাড়া ছাত্রদলের পার্থ দেব, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং রংপুর ধর্মসভার স্বপন কুমার ভট্টাচার্যসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ রংপুরের সংসদ সদস্য ও জেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এটি তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর। মন্দিরের অনুষ্ঠান শেষে তিনি সড়কপথে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন। এর আগে সৈয়দপুর থেকে রংপুরে যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর এলাকায় দুটি পথসভায় বক্তব্য দেন তিনি।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)