অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় স্ক্রিনিং কার্যক্রমের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ, রোগটি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দেশের ৬৪ জেলায় সমন্বিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালুর আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ভবনের কনভেনশন হলে বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ‘অস্টিওপোরোসিস: প্রতিরোধযোগ্য মহামারি’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অস্টিওপোরোসিস একটি নীরব রোগ। এতে হাড় দুর্বল, পাতলা ও ছিদ্রযুক্ত হয়ে পড়ে, ফলে সামান্য আঘাতেও হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এ রোগের কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতা কমে যায়। বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ এ রোগের কারণে হাড় ভাঙা ও দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়। তবে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে নারীরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। রোগটির প্রকৃত বিস্তার নির্ধারণে আরো গবেষণা ও নিয়মিত স্ক্রিনিং প্রয়োজন।
উত্তর-মধ্য বাংলাদেশের ৪৫ থেকে ৮০ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, ওই গবেষণায় অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব পাওয়া গেছে ৪০ শতাংশ এবং অস্টিওপেনিয়ার হার ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ। অংশগ্রহণকারী নারীদের ৮৩ শতাংশের বেশি হাড়ের ঘনত্বের ঘাটতিতে ভুগছিলেন। এ ছাড়া শহরাঞ্চলে ৪৬ থেকে ৬৫ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত একটি পুরোনো হাসপাতালভিত্তিক গবেষণায় অস্টিওপোরোসিসের হার ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অস্টিওপেনিয়ার হার ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ পাওয়া যায়।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর নারীরা উন্নত দেশগুলোর নারীদের তুলনায় অস্টিওপোরোসিসে বেশি আক্রান্ত হন। বাংলাদেশে কতসংখ্যক নারী এ রোগে ভুগছেন, তার নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিসংখ্যান নেই। তাই রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশব্যাপী নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি। কন্যাশিশু ও তরুণীদের জন্য উপযুক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া গেলে ভবিষ্যতে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি ও জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
রোগটি প্রতিরোধে একটি অস্টিওপোরোসিস সোসাইটি গঠনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় সমন্বিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা যেতে পারে। কোনো অঞ্চলের মানুষ যেন সচেতনতা ও স্ক্রিনিংয়ের সুযোগের অভাবে রোগটির ব্যথা ও দুর্ভোগের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসকেরা জনগণকে রোগটির ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। পাশাপাশি এক লাখ নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমেও দেশব্যাপী সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব।
তিনি প্রতিবছর অস্টিওপোরোসিস সচেতনতা মাস পালনের প্রস্তাব দেন। এ উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা ও প্রচারাভিযানের পাশাপাশি জেলা ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের জন্য আধুনিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতিবিষয়ক সেমিনার আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি, হাড়ের খনিজ ঘনত্ব কমে যাওয়া এবং শৈশবে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ ও চিকিৎসা খাতের বিশেষজ্ঞদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
হাড়ের খনিজ ঘনত্ব নির্ণয়ে স্ক্রিনিং ক্যাম্প আয়োজন এবং কমিউনিটি পর্যায়ে নিয়মিত পরীক্ষার সুযোগ তৈরির ওপরও জোর দেন তিনি। যেসব এলাকায় হাড়ের খনিজ ঘনত্ব নির্ণয়ের ব্যবস্থা নেই, সেখানে ফ্র্যাকচার রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট টুলের মাধ্যমে হাড় ভাঙার ঝুঁকি মূল্যায়নের পরামর্শ দেন। তার মতে, সমন্বিত উদ্যোগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এ রোগের জটিলতা কমানো সম্ভব।
ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং ডা. আব্দুস সালাম এমপি।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর পর্ব, প্যানেল আলোচনা ও কুইজ অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, অধ্যাপক ডা. ফারুক কাশেম, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, ডা. শেখ ফরিদ আহমেদ এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ বেলালুল ইসলাম। এবারের কর্মসূচির প্রতিপাদ্য ‘আজীবন হাড় গড়ুন, সুরক্ষা দিন ও শক্তিশালী করুন’। এতে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা দিচ্ছে ইনসেপ্টা।
উল্লেখ্য, অস্টিওপোরোসিস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর ২০ অক্টোবর বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস পালন করা হয়। এ রোগে হাড়ের ঘনত্ব ও শক্তি কমে যাওয়ায় হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। সময়মতো রোগ শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এর জটিলতা কমানো সম্ভব।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)