জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
ছবিঃ পিএমও
রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ এবং আধুনিকায়ন করা ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকাল ১০টার দিকে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন করেন।
এ সময় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছিলেন। উদ্বোধনের পর স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারাও রোপণ করেন তিনি।
পরে প্রধানমন্ত্রী আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যান ঘুরে দেখেন এবং পাশের গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং রাজধানীতে নাগরিকদের জন্য উন্নত পরিবেশ ও বিনোদনসুবিধা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
৯০ ফুট উঁচু জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মিত হয়েছে ৯০ ফুট উঁচু জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ। এর গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে ৮৩৪ জন শহীদের নাম খোদাই করা হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভের সামনে রয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।
স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে চার ফুট উঁচু এবং ভেতরের দিকে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে সাত ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। এসব ভাস্কর্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান।
সবুজ ও আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র ওসমানী উদ্যান
পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত ২৩ একর আয়তনের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে সবুজ, নিরাপদ ও নাগরিকবান্ধব বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি পাঁচটি নতুন জলাশয় তৈরি করা হয়েছে। উদ্যানের বিদ্যমান গাছপালা সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন বৃক্ষরোপণ ও সবুজ দ্বীপ গড়ে তোলা হয়েছে। দর্শনার্থীদের হাঁটাচলার জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার পথ নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, গণশৌচাগার, পার্কিং সুবিধা এবং জলাশয়ের ঘাট তৈরি করা হয়েছে।
উদ্যানটিতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দুই স্তরে সাজানো উদ্যানের সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে দ্রুত চলাচলের পথও নির্মাণ করা হয়েছে। এসব অবকাঠামোর মাধ্যমে রাজধানীর বাসিন্দাদের জন্য উন্মুক্ত পরিবেশে হাঁটাচলা, ব্যায়াম ও অবসর কাটানোর সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)