সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯ এএম
ছবি : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সম্মিলিত উদ্যোগ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা থাকলে দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান পরিবর্তন করা সম্ভব। এ লক্ষ্যেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রবিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, সবাই একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মানুষের কল্যাণে যে উদ্যোগগুলো নিয়েছিলেন, সেগুলো এগিয়ে নেয়ার মধ্য দিয়েই একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ সুগম হতে পারে।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৯ সালে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৩ সালে তিনি ফাউন্ডেশনের স্লোগান ‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা’ লেখেন। দীর্ঘ ২৭ বছরের পথচলায় সংগঠনটি মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছে। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে আরো বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং তাদের কল্যাণে কাজ করা সম্ভব হবে।
ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠার পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কথা নতুন করে উপলব্ধি করেন তিনি। জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষি, শিল্প, শিক্ষা এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন শহীদ জিয়া। একই সাথে শিল্পের ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং শিক্ষার আলো মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এসব জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠা করা হয়।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৯৯ সালে ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরুর সময় বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল না। সে সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং তাঁদের সমস্যা সমাধানে কাজ করার জন্য একটি পৃথক ক্ষেত্র তৈরির প্রয়োজনীয়তা থেকেই সংগঠনটি গড়ে ওঠে। ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে এর সদস্যদের বিভিন্ন বাধা ও নির্যাতনের মুখেও পড়তে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শহীদ জিয়াউর রহমানের কৃষি উন্নয়ন ও নারী স্বাবলম্বীকরণের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফাউন্ডেশন কৃষকদের মধ্যে শস্যবীজ পৌঁছে দেয়া এবং গ্রামের অসহায় ও শ্রমজীবী নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করছে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণেও সংগঠনটি উদ্যোগ নিয়েছে। ঢাকায় কয়েক লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ। তবে রাজনীতির বাইরেও সমাজ ও মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগ তৈরি করতেই ২৭ বছর আগে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সংগঠনটির সব সদস্য ও কর্মীকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানান তিনি।
মানবসেবায় আর্থিক সামর্থ্যের চেয়ে সদিচ্ছাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তিরা নিজেদের সম্পদের সামান্য অংশও মানুষের কল্যাণে ব্যয় করলে অনেক মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। মানুষের পাশাপাশি প্রাণী ও প্রকৃতির কল্যাণেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সব সময় বিপুল অর্থ বা সামর্থ্যের প্রয়োজন হয় না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষের জন্য কিছু করার আন্তরিক ইচ্ছা। ফাউন্ডেশনের সদস্যদের মধ্যে সেই ইচ্ছা রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। সুস্থ ও সক্ষম থাকা পর্যন্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোকে সবার লক্ষ্য হিসেবে নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীমের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিমা রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাঁর জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।
‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা’ স্লোগানকে সামনে রেখে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করছে জেডআরএফ। সংগঠনটির বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, অসহায় মানুষের জন্য ঘর নির্মাণ, গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি বিতরণ, সেলাই মেশিন প্রদান, চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন, শীতবস্ত্র বিতরণ, সামাজিক বনায়ন, শস্যবীজ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ পুনর্বাসন, শিক্ষা বৃত্তি এবং ভার্চুয়াল বিজ্ঞান মেলার আয়োজন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও সংগঠনটি সামর্থ্য অনুযায়ী ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)