সওজের ৪ শতাধিক স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ, উৎপাদন লক্ষ্য ৫১৪৪ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
ছবিঃ বাসস
সরকারি স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) চার শতাধিক স্থাপনার ছাদ ও অব্যবহৃত জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এসব স্থানে মোট ৫ হাজার ১৪৪ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে অধিদপ্তর।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি কার্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো, জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে চায় সওজ। পাশাপাশি দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও অবদান রাখবে এ কর্মসূচি।
সওজের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে অধিদপ্তরের বিভিন্ন ভবনের ছাদ ও অব্যবহৃত জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে সওজের বিভিন্ন স্থাপনায় ৪১০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আরও ২৮৪ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে দরপত্র আহ্বায়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সাথে অতিরিক্ত ৯৬০ কিলোওয়াট সক্ষমতার ব্যবস্থা স্থাপনের প্রস্তুতিও চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী।
সওজের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ২৪৪ কিলোওয়াট, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ১ হাজার ২০০ কিলোওয়াট, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১ হাজার ২০০ কিলোওয়াট এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ১ হাজার ৫০০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। চার অর্থবছরের এ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত হলে মোট সক্ষমতা দাঁড়াবে ৫ হাজার ১৪৪ কিলোওয়াট।
শুধু ভবনের ছাদ নয়, অধিদপ্তরের অব্যবহৃত খালি জায়গাও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব স্থানে মেগাওয়াট-স্কেলের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে।
মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ বা ব্যবহারের প্রয়োজন কমবে। দিনের বেলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে ব্যবহার করা সম্ভব হলে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার পরিমাণ কমবে। এতে সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবস্থাপনার দক্ষতাও বাড়বে।
তিনি আরো বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে সৌরবিদ্যুতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে সওজের যেসব স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ বাসসকে বলেন, বাংলাদেশ জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে সৌর ও বায়ুশক্তির মতো পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। সৌরশক্তির সম্প্রসারণ ২০৫০ সালের নেট-জিরো জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনেও ভূমিকা রাখবে। এ ক্ষেত্রে সওজের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
স্রেডার প্রকাশিত নীতিগত তথ্য অনুযায়ী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫-এ ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য পূরণে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
সওজের মতো বড় সরকারি অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ভবন ও অব্যবহৃত জায়গা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা গেলে জাতীয় পর্যায়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি দিনের বেলায় সরকারি কার্যালয়ের বিদ্যুৎ চাহিদার একটি অংশ নিজস্ব ব্যবস্থায় পূরণ করা সম্ভব হবে।
তবে পরিকল্পনার সুফল নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার যথাযথ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, উৎপাদিত বিদ্যুতের কার্যকর ব্যবহার এবং জাতীয় গ্রিডের সাথে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। একই সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদন, নিজস্ব ব্যবহারের পরিমাণ ও আর্থিক সাশ্রয়ের হিসাব নিয়মিত মূল্যায়ন করা হলে প্রকল্পের কার্যকারিতা নিরূপণ সহজ হবে।
সওজের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সরকারি স্থাপনায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয়, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)