জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা সৈনিকদের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় পতাকা অর্জন কেবল সম্মাননা নয়, বরং অর্পিত দায়িত্ব আরো নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সাথে পালনের নতুন অঙ্গীকার।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সাভার সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পেশাগত সাফল্য, শৃঙ্খলা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনিটগুলোকে এ সম্মাননা দেয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি সেনাবাহিনীর পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। ফলে ভিন্ন পরিচয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেও এ ধরনের পরিবেশ তার কাছে অপরিচিত নয়। জাতীয় পতকাপ্রাপ্ত ইউনিটগুলোকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এই সম্মাননা তাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারত্ব ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।
জাতীয় পতাকার তাৎপর্য তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এ পতাকার সম্মান অক্ষুণ্ন রাখতে প্রতিটি সেনাসদস্যকে দায়িত্ব পালনে আরো আন্তরিক হতে হবে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা করেন। পরে তিনি বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন। ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র প্রতিরোধের নির্দেশ দেওয়ার পর ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি পুনরায় স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনা কর্মকর্তার এই ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গৌরব ও অনুপ্রেরণার অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম কিংবা জনবলের ওপর নির্ভর করে না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও জনগণের আস্থাই বাহিনীর প্রকৃত শক্তি। এর পাশাপাশি চেইন অব কমান্ডের গুরুত্বও অপরিসীম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান বিশ্বে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার স্পেস ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তাই পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশেই অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। একই সাথে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সেনাসদস্যদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষা হবে আগামীর বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সাথে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করতে চায়।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)