উৎসব সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করে: রিজভী
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
উৎসব সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করে: রিজভী
উৎসব ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও উৎসবের আনন্দ সবার। শারদীয় দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও এর সম্প্রীতি ও আনন্দের বার্তা সব সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য।
শনিবার রাজধানীর মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দিরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে দুর্গাপূজার উদ্বোধনী আয়োজনে অংশ নেয়াকে আনন্দের বিষয় উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রদীপের আলো মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে সংকীর্ণতা, গ্লানি ও বিভেদ দূর করার অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানের কথা উল্লেখ করে তিনি মানবিক ঐক্য ও আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজায় বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ সামাজিক সম্প্রীতির বহিঃপ্রকাশ। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, উদারতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের চর্চার মধ্য দিয়ে উৎসবের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করা সম্ভব। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সব মানুষের একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেয়ার সুযোগ তৈরি করে এ ধরনের আয়োজন।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক মাস আগেই বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যাতে পূজা উদ্যাপনে কোনো ধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি না হয়।
রুহুল কবির রিজভী জানান, পূজার নিরাপত্তা ও আয়োজন সমন্বয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা পর্যায়েও নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নেতারা পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয়তা, পরিকল্পনা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছেন।
তিনি বলেন, মন্দিরে পুরোহিত ও ভক্তরা প্রার্থনার মাধ্যমে নিজেদের ও পরিবারের মঙ্গল কামনা করেন। মন্দিরের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ না হলে তাঁদের প্রার্থনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পূজামণ্ডপ ও মন্দিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিএনপি ও সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে রিজভী বলেন, দুর্গাপূজা বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে গভীরভাবে জড়িত। এ উৎসবকে ঘিরে সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আনন্দ ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ তৈরি হয়।
নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, তাঁদের বাড়ির পাশেও দুর্গাপূজার মেলা বসত। রঙিন বেলুন, খেলনা ও মিষ্টান্নের প্রতি শিশুদের আকর্ষণ ছিল। এ মেলাকে ঘিরে শিশুদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হতো এবং তাঁরা সারা বছর দুর্গাপূজার সময়টির অপেক্ষায় থাকতেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, শুধু দুর্গাপূজা নয়, সব ধরনের উৎসবই সাম্প্রদায়িক বিভেদ অতিক্রম করে মানুষকে কাছাকাছি আনে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করার মধ্য দিয়ে উৎসব সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)