কারিগরি শিক্ষা ও চীনা ভাষা প্রসারে বাংলাদেশ-চীন সমঝোতা
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
ছবিঃ বাসস
বাংলাদেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং চীনা ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন। এ লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিল্পখাতের সাথে শিক্ষার সংযোগ জোরদারসহ সহযোগিতার নয়টি ক্ষেত্রে ঐকমত্যে পৌঁছেছে দুই দেশ।
চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স ২০২৬’-এর সাইডলাইনে গতকাল রাতে বাংলাদেশের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। চীনের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইয়ৌছুন। এ সময় চীনের ভাষা শিক্ষা ও সহযোগিতা কেন্দ্রের মহাপরিচালক ইউ ইউনফেং, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিনিময় বিভাগের উপমহাপরিচালক লিউ ইয়ং এবং কারিগরি ও প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা বিভাগের উপমহাপরিচালক চি ইয়ানওয়েই উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ জন্য চীনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কারিগরি ও অবকাঠামোগত সহায়তায় দেশজুড়ে চীনা মানদণ্ড অনুসরণ করে ডিপ্লোমা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন তিনি।
এ ছাড়া বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চীনের সহায়তায় স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, কারিগরি কলেজগুলোতে ‘চীনা ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা’ বিষয়ক বিশেষ কোর্স চালু এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।
চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইয়ৌছুন বাংলাদেশের এসব প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন, স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন এবং জাতীয় পর্যায়ে চীনা ভাষা শিক্ষার প্রসারে চীনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
দুই দেশের সমঝোতা অনুযায়ী, কারিগরি শিক্ষা, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও জাতীয় দক্ষতা সনদায়ন নিয়ে কাজ করতে একটি বাংলাদেশ-চীন যৌথ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা দল গঠন করা হবে। পাশাপাশি চীনের কারিগরি সহায়তা, আধুনিক পরীক্ষাগার এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্বে বাংলাদেশে মডেল কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হবে।
বাংলাদেশের বিদ্যমান কারিগরি কলেজগুলোর শিক্ষার মান ও কার্যক্রম মূল্যায়ন করে উন্নয়নের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সাথে চীনা শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তুলে শিক্ষার সঙ্গে শিল্পখাতের সরাসরি সংযোগ বাড়ানো হবে।
সহযোগিতার আওতায় প্রকৌশল, উৎপাদন, নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সেবাখাতে ‘চীনা ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা’ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পেশাগত প্রশিক্ষণ, স্বীকৃত সনদ, শিল্পকারখানায় ইন্টার্নশিপ এবং টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত রূপরেখাও তৈরি করা হবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশি কারিগরি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, শিক্ষা প্রশাসনে যুক্ত ব্যক্তিদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা ও একাডেমিক বিনিময় সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব কার্যক্রমের অগ্রগতি, স্নাতকদের কর্মসংস্থান এবং সহযোগিতার সামগ্রিক প্রভাব যাচাই করতে আনুষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ গৃহীত উদ্যোগগুলো নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং চীনা ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)