Logo
×

Follow Us

জাতীয়

জাতীয় প্রতিযোগিতার সেরা তরুণদের জাতিসংঘে পাঠাবে সরকার: মাহ্‌দী আমিন

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম

জাতীয় প্রতিযোগিতার সেরা তরুণদের জাতিসংঘে পাঠাবে সরকার: মাহ্‌দী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন।

জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় সেরা নির্বাচিত তরুণদের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে সরকার সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন। আগামী বছর থেকে এ উদ্যোগ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে ‘বাংলাদেশ ইউথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। ‘ফিউচার বাংলাদেশ’ আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী বিষয় নিয়ে বিতর্কে অংশ নিচ্ছেন।

মাহ্‌দী আমিন বলেন, দেশের সব স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে। এতে চূড়ান্তভাবে বিজয়ী ও সেরা হিসেবে নির্বাচিত তরুণদের সরকারি অর্থায়নে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে তাঁরা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আগামী বছর থেকে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, নতুন কুঁড়ি, ক্বিরাআত ও হিফজ প্রতিযোগিতা, বিতর্ক এবং কুইজসহ শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশের বিভিন্ন আয়োজনে সরকারের সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকবে।

‘বাংলাদেশ ইউথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’ আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে মাহ্‌দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তরুণ প্রজন্ম। তাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্প, রাজনীতি, নীতিনির্ধারণ ও সাংবাদিকতাসহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। দেশকে এগিয়ে নিতে তরুণদের মেধা, যোগ্যতা, সততা ও সঠিক মূল্যবোধের চর্চা জরুরি।

তিনি বলেন, তরুণদের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে দেশ নিয়ে তাদের সুস্পষ্ট স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে। একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় হতে হবে।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে মাহ্‌দী আমিন বলেন, বৈষম্যহীন ও মেধাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তরুণেরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে। এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত হবে এবং সবাই সমান সুযোগ পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, সরকার এমন বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে সফলতা অর্জন কিংবা আত্মবিকাশের জন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের প্রয়োজন হবে না। রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার ও সমতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।

তরুণদের ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের ভবিষ্যতের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশকে স্বনির্ভর করতে তরুণদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সময়োপযোগী দক্ষতা অর্জন ও মানবসম্পদ উন্নয়নের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।

মাহ্‌দী আমিন আরো বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তরুণদের প্রত্যাশা ও উদ্ভাবনী ধারণা নীতিনির্ধারণে কাজে লাগানোর জন্য আরও বেশি নীতি সংলাপ আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।

নিজের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মাহ্‌দী আমিন জানান, ২০০৭ সালে সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের বারুক কলেজে পড়ার সময় তিনি ‘মডেল ইউনাইটেড নেশনস’-এ অংশ নিয়েছিলেন। ওই সময় কলেজের প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘের সদর দপ্তরেও যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল তার।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী দিনের নেতৃত্ব গড়ে উঠবে তরুণদের মধ্য থেকেই। দেশকে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নিতে তাঁদের পাশে থাকবে সরকার। প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা, সহযোগিতা ও সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড।

মন্তব্য করুন