Logo
×

Follow Us

জাতীয়

ডাক বিভাগকে আধুনিক ও লাভজনক করতে উদ্যোগ সরকারের

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম

ডাক বিভাগকে আধুনিক ও লাভজনক করতে উদ্যোগ সরকারের

ছবিঃ বাসস

ডাক বিভাগকে আধুনিক, জনবান্ধব ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এ লক্ষ্য অর্জনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ডাকসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে এবং পার্সেল সেবায় ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে। এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। ডাক বিভাগকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে ডাক বিভাগের সেবার মান, আয় ও সক্ষমতা আরো বাড়বে।

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের আপাতত নেই। বরং নগদকে আরো আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পটি চালুর লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে কারিগরি প্রক্রিয়া ও পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা জরুরি।

ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি তাঁদের কাজের প্রতি উৎসাহ বাড়ায়। তাই যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে পুরস্কার দেওয়ার ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ডাকঘর ও সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের অবদানও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, দেশজুড়ে বিস্তৃত ডাকঘরের নেটওয়ার্ক ও বিদ্যমান অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য ডাক বিভাগের সংস্কার ও সেবার রূপান্তরের পাশাপাশি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্রের সাথে সমন্বয় এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের কাছে সহজে সেবা পৌঁছানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

ডাকসেবার প্রচার বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকর ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন সচিব। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পুরস্কার কার্যক্রমে নতুন প্রতিভাবানদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

এ বছরের বিশ্ব ডাক দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’। দিবসটি উপলক্ষে ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে ডাকসেবা সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার প্রতিপাদ্যের ওপর একটি স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করা হয়।

ডাকসেবা সপ্তাহ উপলক্ষে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চিঠি উৎসব, ডাকটিকিট প্রদর্শনী, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। দেশের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ এবং কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতসহ মোট ২৬টি স্থানে চিঠি উৎসব, ডাকটিকিট প্রদর্শনী ও ডাকসেবা মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে প্রায় ৪ হাজার ৬৪৩টি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। আয়োজকদের আশা, এ উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হাতে চিঠি লেখার আগ্রহ ও অভ্যাস বাড়াতে সহায়তা করবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী পাঁচ শিক্ষার্থী, ৫৫তম আন্তর্জাতিক পত্রলিখন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী তিনজন, পোস্টাল ব্যালট কার্যক্রমে অবদানের জন্য চার কর্মচারী, লেটার পোস্ট সেবায় অবদানের জন্য ছয় কর্মচারী এবং ডাকসেবায় অবদানের জন্য পাঁচ কর্মকর্তাকে সম্মাননা দেয়া হয়। এ ছাড়া ‘নগদ’-এর ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট ও নগদ সেবা বিভাগে অবদানের জন্য ছয় প্রতিনিধিকে পুরস্কৃত করা হয়। সব মিলিয়ে ২৯ জনকে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়।

ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন