পরিবেশ রক্ষায় সকলকে নিজ অবস্থানের বাইরেও কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
সংগৃহীত ছবি
পরিবেশ ও বন রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নবিষয়ক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সভায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মাতৃগাছ বা ‘মাদার ট্রি’ চিহ্নিত করে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের পর চারার নিয়মিত পরিচর্যা, সেগুলো বেঁচে আছে কি না তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বনায়ন বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, মানুষের জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটানোর জায়গা বাড়াতে হবে। এ ছাড়া ছাদবাগান, স্কুলবাগান এবং বিভিন্ন ভবনে বাগান তৈরিতে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। মানুষ যত বেশি সচেতন হবে, পরিবেশ সংরক্ষণের কার্যক্রম বাস্তবায়ন তত সহজ হবে। এ জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত কার্যকর করার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কর্মসূচিও গ্রহণ করতে হবে।
ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকছে। এ পরিস্থিতি দেশের জন্য উদ্বেগজনক। দূষণ কমাতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকের নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের মানুষের কল্যাণে আরো বেশি কাজ করার সক্ষমতা রয়েছে। দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সবার জীবনে আসে না। তাই দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের শুধু দাপ্তরিক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অতিরিক্ত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দেশের পরিবেশের অবনতি হলে এর প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর পড়বে। পরবর্তী প্রজন্মও এ দেশেই বসবাস করবে। তাই পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এর সুফল দেশের মানুষ পাবে। এ ক্ষেত্রে শুধু গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়, রোপণ করা চারার পরিচর্যা ও বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করাও জরুরি।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, অন্যান্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী গাছ লাগাতে ব্যর্থ হলে সেই ঘাটতি পূরণে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং লাগানো গাছের নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)