Logo
×

Follow Us

জাতীয়

সমুদ্র অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চায় সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম

সমুদ্র অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চায় সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী

নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সমুদ্র, নদী ও জলসম্পদের বিপুল সম্ভাবনাকে দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কাজে লাগাতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, পরিবেশের ক্ষতি না করে পরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে এসব সম্পদ ব্যবহার করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল মেরিন অ্যান্ড অফশোর এক্সপো (বিআইএমওএক্স) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রদর্শনীটি ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।

নৌমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রসম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে জনবান্ধব ও পরিবেশবান্ধব নীতি গ্রহণ করা জরুরি। যত্রতত্র সম্পদ আহরণ না করে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কাঠামোর আওতায় সমুদ্রসম্পদ কাজে লাগাতে হবে। বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চল জলরাশিতে আচ্ছাদিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জলসম্পদকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির উৎসে পরিণত করা সম্ভব। অন্যদিকে, যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে এই সম্পদই সংকটের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশের বিস্তৃত নৌপথ ও উপকূলীয় এলাকার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, দেশে প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে। তবে উপকূলীয় অঞ্চল ও সমুদ্রসৈকতের সম্ভাবনাকে এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পিত উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে।

দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মাতারবাড়ীতে আন্তর্জাতিক মানের গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বন্দরটি পুরোপুরি কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি পায়রা সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম আরো জোরদার করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, বে টার্মিনাল প্রকল্পে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটিকে যুক্ত করতে পেরেছে বাংলাদেশ। ডেনমার্কের এপি মোলার-মার্স্ক লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণে কাজ করছে। এ ছাড়া সিঙ্গাপুরের পিএসএ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানও দেশের বন্দর খাতের উন্নয়নে যুক্ত হয়েছে।

নৌমন্ত্রী আরো বলেন, সমুদ্রসম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং সামুদ্রিক খাতের উন্নয়ন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও গুরুত্ব পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কারিগরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ সমুদ্র অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমির বিকাশে আরো এগিয়ে যেতে চায়।

বিআইএমওএক্স ২০২৬ প্রদর্শনীতে জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ পুনর্ব্যবহার, সমুদ্রভিত্তিক তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, লজিস্টিকস এবং প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয়করণসহ বিভিন্ন খাতের আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন তুলে ধরা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট খাতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে এ আয়োজন ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন