Logo
×

Follow Us

জাতীয়

কৃষিকে লাভজনক করতে আধুনিক প্রযুক্তির ওপর জোর রাষ্ট্রপতির

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম

কৃষিকে লাভজনক করতে আধুনিক প্রযুক্তির ওপর জোর রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বাংলাদেশের কৃষিকে লাভজনক খাতে রূপান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কৃষিকাজে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় শ্রমিকেরা এ পেশা ছেড়ে অন্য কাজে যুক্ত হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষির লাভজনকতা বাড়ানো না গেলে এ খাতে শ্রমিকসংকট আরও প্রকট হতে পারে।

আজ সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) পরিদর্শনকালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, কৃষকদের প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থার অভাবে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

উত্তরাঞ্চলে আলুর ব্যাপক উৎপাদন সত্ত্বেও কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক সময় দাম না পেয়ে কৃষকেরা আলু রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হন। অথচ পরবর্তী সময়ে বীজ আলুর দাম বেড়ে যায়। উৎপাদনস্থল থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পরও আলুর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। অন্যান্য সবজি ও ফলমূলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। এ জন্য আলু, টমেটোসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য দীর্ঘদিন সংরক্ষণে সক্ষম কোল্ড স্টোরেজ ও আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ জরুরি।

পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষি গবেষকদের সাফল্যের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, একসময় পেঁয়াজ আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হতো। বর্তমানে আমদানির প্রয়োজন না হওয়ার বিষয়টি দেশের কৃষি খাতের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে ফলমূলের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সেগুলোর সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণেও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মাত্রাতিরিক্ত সার মাটির উর্বরতা ও ফসলের গুণগত মানের ক্ষতি করছে। এ সমস্যা কমাতে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কৃষিবিজ্ঞানীরা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না পেলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হবে। এ সময় কৃষিবিজ্ঞানীদের পেনশন-সংক্রান্ত বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে কৃষিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কৃষি উন্নয়নে অবদানের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি ও উচ্চফলনশীল ধানের বীজ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষিবিদ ও কৃষিবিজ্ঞানীদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি। একই সাথে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

মতবিনিময় সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, বারির মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল কাদির এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বারির মহাপরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন এবং প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।

এর আগে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে বারি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি বারির জিন ব্যাংক ও বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন। সফরের শেষ পর্যায়ে উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্রের (পিজিআরসি) প্রাঙ্গণে বারি কাঁঠাল-৬ জাতের একটি চারা রোপণ করেন তিনি।

মন্তব্য করুন