Logo
×

Follow Us

জাতীয়

নিরাপদ অভিবাসন ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

নিরাপদ অভিবাসন ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ছবি: নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিরাপদ অভিবাসন, মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত ও দক্ষ জনশক্তির তৈরির মাধ্যমে বিশ্ববাজারে দেশের অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসাথে সরকার ও বিরোধীদলসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে অভিবাসীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (আরএমএমআরইউ)-এর ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং সোনার মানুষ সম্মিলন-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আসুন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে অভিবাসন হবে নিরাপদ, কর্মসংস্থান হবে মর্যাদাপূর্ণ, দক্ষ জনশক্তি বিশ্ববাজারে দেশের অবস্থানকে করবে শক্তিশালী এবং প্রবাসী ও প্রত্যাগত কর্মীরা হবেন জাতীয় উন্নয়নের সমান অংশীদার।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মনে রাখতে হবে, রেমিট্যান্সের প্রতিটি ডলারের পেছনে রয়েছে একজন মানুষের শ্রম, ত্যাগ ও স্বপ্ন। তাদের অধিকার রক্ষা, মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং তাদের অর্জনকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা অনিশ্চিত থাকতে পারে না। এজন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য অভিবাসন ব্যয় কমানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রতারণা ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য অনেক কর্মী জমি বিক্রি করেন, ঋণ নেন এবং পরিবারের সঞ্চয় ব্যয় করেন। এরপরও তাদের অনেকে অর্থ প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, অনিশ্চিত চাকরি কিংবা চুক্তি অনুযায়ী বেতন না পাওয়ার মতো সমস্যায় পড়েন। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরো সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মিশনগুলোকে শ্রমিকবান্ধব হতে হবে। প্রতিটি কর্মী বিদেশযাত্রার আগে যেন তার চাকরির চুক্তি, বেতন, কর্মপরিবেশ ও আইনি অধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান, সে ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির দুটি প্রধান চালিকাশক্তি হলো প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাকশিল্প। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বৈদেশিক মুদ্রার জোগান, আমদানি ব্যয় পরিশোধ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে ৩৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এই অর্থ শুধু লাখ লাখ পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত করছে না, দেশের অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী কর্মীর শ্রম, ঘাম, ত্যাগ ও অবদান রয়েছে। তাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রবাসীরা শুধু অর্থ পাঠান না, বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বও করেন। তাদের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা জাতীয় সম্পদ।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে পরিবর্তিত পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো যথেষ্ট নয়; দক্ষ কর্মী, উপযুক্ত কর্মসংস্থান ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কারিগরি জ্ঞান, ভাষাদক্ষতা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও পেশাগত প্রশিক্ষণের গুরুত্ব বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্যপ্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, নার্সিং, স্বাস্থ্যসেবা, বয়স্কদের পরিচর্যা, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিকস প্রযুক্তি এবং আধুনিক নির্মাণশিল্পে দক্ষ কর্মীর চাহিদা রয়েছে।

এই চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মী তৈরি করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কোন দেশে কোন পেশায় কত কর্মী প্রয়োজন এবং তাদের কী ধরনের যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা দরকার, সেই তথ্যের ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ ও নিয়োগের পরিকল্পনা করার ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে বিদেশি নিয়োগকর্তা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

নারী অভিবাসীদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার কথাও বলেন রাষ্ট্রপতি। প্রবাসীদের সঞ্চয় উৎপাদনশীল বিনিয়োগে উৎসাহিত করা, দেশে ফিরে আসা কর্মীদের পুনর্বাসন, দক্ষতার স্বীকৃতি, ঋণসুবিধা এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ দেয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

মন্তব্য করুন