Logo
×

Follow Us

জাতীয়

এলপিজি সরবরাহে কারসাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম

এলপিজি সরবরাহে কারসাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ছবিঃ বাসস

এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সরবরাহে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, বাজারে কারসাজি কিংবা ধর্মঘটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, এলপিজি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হওয়ায় এর সরবরাহ ব্যাহত করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করার সুযোগ নেই।

বুধবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এলপিজি অপারেটরদের সাথে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকে এলপিজির মূল্য, সরবরাহব্যবস্থা, ব্যবসায়ীদের দাবিদাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার প্রভাব দেশের জ্বালানি খাতেও পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করছে সরকার।

তিনি বলেন, এলপিজি সরবরাহ ও বিপণনে বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজতে অপারেটরদের সাথে আলোচনা করা হচ্ছে। বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং সরবরাহব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, এলপিজি অপারেটরদের সাথে এটি সরকারের তৃতীয় বৈঠক। আগের বৈঠকগুলোতেও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো সমাধানের পাশাপাশি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে আলোচনা চলছে। আগামী ২০ অক্টোবর সংশ্লিষ্টদের সাথে আবারও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

ধর্মঘট প্রত্যাহার নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এলপিজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। এই পণ্য সরবরাহে কারসাজি, কৃত্রিম সংকট কিংবা ধর্মঘটের মাধ্যমে জনগণকে দুর্ভোগে ফেলার চেষ্টা করা হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশে এলপিজি সরবরাহ ও বিপণনের সাথে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্ত। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত ফর্মুলা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়।

তিনি জানান, বিভিন্ন দাবিদাওয়া আদায়ের জন্য এলপিজির ডিলার ও বিক্রেতারা চলতি সপ্তাহের শেষ দুই দিন ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে অপারেটরদের সাথে বৈঠক করে বর্তমান ও আগামী বছরে এলপিজির সরবরাহ কীভাবে স্থিতিশীল রাখা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনায় উঠে আসা কৌশলগুলো প্রকাশের সময় এখনো আসেনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সরবরাহ ও ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন, ১৯৫৬ অনুযায়ী, এ ধরনের পণ্যের সরবরাহ নিয়ে কারসাজি কিংবা বাজারে জনস্বার্থবিরোধী পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হলে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

তিনি আরো বলেন, দেশের লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন রান্নাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে এলপিজি ব্যবহৃত হয়। ফলে এই জ্বালানির সরবরাহ বন্ধ বা ব্যাহত হলে সাধারণ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক দাবিদাওয়া আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো সমস্যা বা দাবি থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে হবে। বাণিজ্যিক বিরোধের কারণে সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া কিংবা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা গ্রহণযোগ্য নয়। নিজেদের স্বার্থে বাজারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলপিজির বাজার স্থিতিশীল রাখা, সরবরাহ অব্যাহত রাখা এবং সম্ভাব্য ধর্মঘটের কারণে যাতে কোনো সংকট তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে অপারেটর ও ডিলারদের সাথে আলোচনা চলবে। একই সাথে ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক সমস্যার সমাধান এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন