Logo
×

Follow Us

জাতীয়

২০৩০ সালের মধ্যে খাদ্য মজুদ সক্ষমতা ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করবে সরকার

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম

২০৩০ সালের মধ্যে খাদ্য মজুদ সক্ষমতা ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করবে সরকার

ছবিঃ বাসস

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদ ধারণক্ষমতা ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান খাদ্যগুদাম সংস্কার, সংরক্ষণ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং খাদ্যশস্য মজুদের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এ সময় খাদ্য, রেলপথ, বাণিজ্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, ক্রীড়া ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের সরকারি কার্যক্রম ও অগ্রগতি তুলে ধরেন তিনি।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে খাদ্য অধিদপ্তরের অধীন সিএসডি, এলএসডি, সাইলো ও ওয়্যারহাউসসহ বিভিন্ন স্থাপনায় খাদ্যশস্য সংরক্ষণের মোট ধারণক্ষমতা ২৪ লাখ ৯ হাজার টন। তবে জরাজীর্ণ অবস্থা, পুরোনো অবকাঠামো ও নদীভাঙনের কারণে প্রায় ৯২ হাজার টন ধারণক্ষমতার গুদাম বর্তমানে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এসব গুদাম সংস্কার ও মেরামতের মাধ্যমে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদ সক্ষমতা বাড়িয়ে ভবিষ্যতের চাহিদা মোকাবিলা করাই এ পরিকল্পনার লক্ষ্য।

এদিকে, এলপিজি সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতে দেশের সব জেলা প্রশাসকের সাথে বিশেষ বৈঠক করেছে সরকার। বৈঠকে নিজ নিজ জেলার এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারদের তালিকা তৈরি, সরবরাহব্যবস্থার সঠিক চ্যানেল অনুসরণ এবং অনিয়ম শনাক্ত হলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা।

নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা ও এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অক্টোবরের প্রথম ১১ দিনে সারা দেশে ৩৬৮টি তদারকি অভিযান পরিচালনা করেছে। এ সময় ভোক্তা স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন অপরাধে ৭২৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের সুরক্ষা ও পণ্যের স্বতন্ত্র পরিচিতি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের অনুকূলে ১০টি পণ্যের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) নিবন্ধন পাওয়া গেছে। নিবন্ধিত পণ্যগুলো হলো ঢাকাই মসলিন, ঢাকাই ফুটি কার্পাস, সিলেটের মণিপুরি শাড়ি, মিরপুরের কাতান শাড়ি, কুমিল্লার খাদি, সিরাজগঞ্জের গামছা, সিরাজগঞ্জের লুঙ্গি, কুমারখালীর বেডশিট, ফুটি কার্পাস তুলার বীজ ও গাছ এবং কালিগঞ্জের তোয়ালে। এসব পণ্যের স্বীকৃতি দেশের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র ও তাঁতশিল্প সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে বলে জানান উপদেষ্টা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ১১ অক্টোবর বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে সফলভাবে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ নিউক্লিয়ার ফিশন চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

কর্মজীবী নারীদের সহায়তা এবং শিশুদের নিরাপদ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে নতুন ২১টি ডে-কেয়ার সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘৬০টি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এসব কেন্দ্রের কার্যক্রম অনুমোদনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের সামাজিক নিরাপত্তা ও বীমা সুবিধা দেয়ার ঘোষণাও ব্রিফিংয়ে তুলে ধরা হয়।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন কর্মসূচির অগ্রগতি জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত সাত মাসে সারা দেশে ৩ কোটি ৫৭ লাখ চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।

সরকারের এসব উদ্যোগের মধ্যে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাজার তদারকি জোরদার, ঐতিহ্যবাহী পণ্যের জিআই স্বীকৃতি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, কর্মজীবী নারীদের জন্য শিশু পরিচর্যা সুবিধা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

মন্তব্য করুন