Logo
×

Follow Us

জাতীয়

দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি ও পরিকল্পিত নগরায়ণের তাগিদ রাষ্ট্রপতির

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম

দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি ও পরিকল্পিত নগরায়ণের তাগিদ রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

 

প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি, ঝুঁকিসচেতন নগর পরিকল্পনা এবং দুর্যোগসহনশীল অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় ঢাকা শহরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ নিয়েও আরো বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বিশ্বের বিভিন্ন শহরে অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থার কারণে দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে। এ কারণে ভবন নির্মাণে বিধিবিধান অনুসরণ, নগর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার পাশাপাশি দূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

কাঠমান্ডু ও তেহরানের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও নিরাপদ অবকাঠামো না থাকলে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে। তাই নগর পরিকল্পনা ও ভবন নির্মাণে দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় নেয়া জরুরি।

বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের দুর্যোগ মোকাবিলার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, ভূমিধস, খরা, বজ্রপাত ও ভূমিকম্পের মতো নানা ঝুঁকির মধ্যে দেশের মানুষকে বসবাস করতে হয়। ১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, ওই দুর্যোগ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতা এবং এর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের একটি বড় উদাহরণ।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অবদান অত্যন্ত সামান্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের বড় ভুক্তভোগী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে লবণাক্ততা, জলোচ্ছ্বাস ও অন্যান্য পরিবেশগত ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে।

স্বাধীনতার পর থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ফলে দুর্যোগে প্রাণহানি কমেছে। একই সঙ্গে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতাও বেড়েছে।

তবে শুধু আগাম সতর্কবার্তা দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দুর্যোগের আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার ওপর জোর দেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্যোগ সংঘটিত হওয়ার আগেই ক্ষয়ক্ষতি কমানোর প্রস্তুতি নিতে হবে। পাশাপাশি দুর্যোগের পর দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাদের কার্যক্রমকে আরো কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। স্বেচ্ছাসেবকদের বিষয়ে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নদীভাঙন, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবেশদূষণ রোধ, জলাভূমি ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ এবং দুর্যোগসহনশীল অবকাঠামো নির্মাণের ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানির প্রবাহ ব্যবস্থাপনায় খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। বর্তমান সরকারও এ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগ আন্তরিকতার সাথে বাস্তবায়ন করতে হবে।

দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের প্রস্তুতির প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি সিলেটের হাওর অঞ্চলের বাসিন্দাদের সচেতনতার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি আগাম সতর্কবার্তা প্রদানে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।

দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যক্তিগত ও সামাজিক প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, নিজেদের ঘরবাড়ি নিরাপদ করার পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদেরও প্রস্তুতির আওতায় আনতে হবে। জরুরি কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিরাপদে রাখতে হবে এবং সরকারি সতর্কবার্তা পাওয়ার সাথে সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, নদী-খাল রক্ষা এবং বৃক্ষরোপণেও সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার প্রায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ উদ্যোগ দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্যোগসহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সহনশীলতার সূচনা হতে হবে ঘর থেকেই।

এর আগে সকালে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে রাষ্ট্রপতি আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে স্থাপিত বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। পরে বক্তব্যের আগে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির শ্রেষ্ঠ স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রশমনবিষয়ক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এবং সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলম।

মন্তব্য করুন