কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে গ্রিডে ৬৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে গ্রিডে ৬৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ
রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে দেশের প্রথম গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ। সাত বছর আগে স্থাপিত ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার এ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পাহাড়ি জমিকে কাজে লাগিয়ে গড়ে ওঠা এ প্রকল্প দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনাকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে কাপ্তাইয়ে আরও দুটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলছে। পাশাপাশি নতুন একটি ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়াও এগিয়েছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) এসব তথ্য জানিয়েছেন কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান।
তিনি জানান, ১৯৬২ সালে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর বাঁধের পাশে প্রায় ২২ একর জমি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। এর মধ্যে ১৯ একর জমিতে প্রায় ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ওই জমিতে স্থাপিত সারি সারি সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিয়মিত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ প্রকল্প পরিচালনায় জনবল ও ব্যয় তুলনামূলক কম। মূলত সৌর প্যানেল পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করাই প্রধান কাজ। প্রতিকূল আবহাওয়ায় উৎপাদন কিছুটা কমলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না। পাহাড়ের অব্যবহৃত জমিতে এ ধরনের প্রকল্পের সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, বর্তমান কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে অতিরিক্ত ১ মেগাওয়াটের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি নতুন করে ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রটির ব্রিকফিল্ড এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে।
সৌরবিদ্যুতের অন্যতম সুবিধা হলো, এ জন্য তেল, গ্যাস বা কয়লার মতো প্রচলিত জ্বালানি পোড়ানোর প্রয়োজন হয় না। ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের সুযোগ তৈরি হয়। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো গেলে জ্বালানি আমদানির ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়ও সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাপ্তাইয়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অন্যান্য উপযুক্ত ও অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। পাশাপাশি ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন, কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং বৃহৎ পরিসরে সোলার পার্ক নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। পরিকল্পিত উদ্যোগ, আধুনিক প্রযুক্তি ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব।
দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-দশমাংশজুড়ে রয়েছে তিন পার্বত্য জেলা। এ অঞ্চলের উপযুক্ত অনাবাদি ও অব্যবহৃত জমি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের আওতায় আনা গেলে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সম্ভব হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে জমির উপযোগিতা, পরিবেশগত প্রভাব, বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্প পরিকল্পনা করা জরুরি।
জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কাপ্তাইয়ের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র একটি কার্যকর উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ করা গেলে দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য শক্তির অবদান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)